লোগো
Advertisement

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম
Advertisement

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচ দফা জরুরি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি থেকে শুরু করে সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা, বিচার ও জবাবদিহি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১১টার দিকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে এখন শুধু বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রথম প্রস্তাব—প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ

রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

দ্বিতীয় প্রস্তাব—সহিংসতা বন্ধ ও অধিকার নিশ্চিত

রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, নিরাপদ পরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে দেশে ফেরার আস্থা তৈরি হবে না।

তৃতীয় প্রস্তাব—মানবিক সহায়তা বাড়ানো

রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাদের সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

চতুর্থ প্রস্তাব—বিচার ও জবাবদিহি

টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগে গাম্বিয়ার ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্তব্যবস্থাগুলোকে অব্যাহত সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান।

মিয়ানমারে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

পঞ্চম প্রস্তাব—আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন

রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে সৃষ্ট মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরার কোনো বিকল্প নেই।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...