লোগো
Advertisement

শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে সায় দিচ্ছে দেশের গুপ্ত বাহিনী: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
Advertisement

শেখ হাসিনা বিদেশে বসে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন এবং দেশের ভেতরে থাকা কিছু ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ শক্তি তাতে সায় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিদেশে বসে শেখ হাসিনা কলকাঠি নেড়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। আর দেশের ভেতরে থাকা গুপ্ত ও সুপ্তরা তালের পাখা দিয়ে তাতে বাতাস দিচ্ছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এসব কথা বলেন রিজভী। দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে রিজভী বলেন, বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্র করে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণ এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সচেতন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সবসময় অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করেছে।

রাজধানীর মধ্যবাড্ডা, কাফরুল, উত্তরা, মিরপুর ও শাহবাগে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের পক্ষে বক্তব্য

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। কিউবায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতির প্রভাবও বৈশ্বিক বাজারে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি না বুঝে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারি সফর ও গাড়িবহর নিয়ে প্রশ্ন

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ৩৫ সদস্যের একটি সংক্ষিপ্ত বহর নিয়ে সফর করায় সরকারি অর্থের সাশ্রয় হয়েছে।

অন্যদিকে আগের সরকারের সময়ে বড় বহর নিয়ে বিদেশ সফরের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সে সময় ১৫০ থেকে ২০০ জনের বহর নিয়ে সফর করা হতো। এ ধরনের ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লংমার্চের গাড়িবহরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তাঁর দাবি, সরকারি হিসাবে যমুনা সেতু দিয়ে সাড়ে ৪০০টি গাড়ি যাওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে, আর জামায়াতের আমির এক হাজার গাড়ি যাওয়ার কথা বলেছেন। জ্বালানি সংকটের সময়ে এত গাড়ি নিয়ে কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা

রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার হতদরিদ্র, প্রান্তিক কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী সভাপতিত্ব করেন। এতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...