লোগো
Advertisement

মানিব্যাগ চুরির অপবাদে শিশুসহ মাকে লাঠিপেটার অভিযোগ, ভিডিও ছড়াল সামাজিক মাধ্যমে

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
Advertisement

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অপবাদে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মারধরের পর আতঙ্কে ওই শিশু ও তার মা চার দিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি বলে স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিশুটির নাম জিসান (১২)। সে ওই গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে।

জিসানের মা নাজমা বেগমের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। এর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন তার স্বামী। তবে ওই লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না।

নাজমার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চাইতে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান তিনি। এতে চুন্নু ও তার ভাই ক্ষুব্ধ হন। বৃষ্টির কারণে সড়কে কাদা থাকায় চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলেও জানান তিনি।

নাজমা বলেন, ‘শুক্রবার চুন্নু ও তার ভাই জিসানকে আমাদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাদের মারধর করা হয়। জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এমন করেছেন।’

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালে শিশু ও তার মা হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। দুজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের স্থানগুলোতে কালো দাগ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে হাফিজুর রহমান চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই ছেলে চোর। এলাকার সব জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। সেদিন চুরি করার পর প্রশাসনকে বলেছি। তারা বলেছে, দুই-একটা “পিডান পুডান” দিয়ে ছেড়ে দিতে।’

শিশুটির মাকে কেন মারধর করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, ‘ওরা এলাকার জাত চোর, সবাই জানে। আর আমরাও মানবিক। ওর মা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি হয়। ওর মাকে বলেছি, পোলা ঢাকায় পাঠাইয়া দিতে।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এরকম কোনো বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। আর এরকম অপেশাদার কথা আমরা বলিনি।’

ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...