শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ, পাল্টা প্রতিবাদ ইজিবাইক-রিকশা ও পাখি ভ্যান মালিক-শ্রমিকদের
চুয়াডাঙ্গায় পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাস ধর্মঘট ঘিরে বাস মালিক-শ্রমিক এবং ইজিবাইক, রিকশা ও পাখি ভ্যান মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ায় দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন মণ্ডলের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ইজিবাইক, রিকশা ও পাখি ভ্যান মালিক-শ্রমিক সমিতি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে জেলা বাস মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদ, বাস চলাচল বন্ধ রাখা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনের নেতারা।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ওই সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের টিএনটি মোড়ে ইজিবাইক, রিকশা ও পাখি ভ্যান মালিক-শ্রমিক সমিতির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি মো. আবু সাঈদ সুজনসহ নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন মণ্ডলের উসকানির কারণে বাস মালিক-শ্রমিক এবং ইজিবাইক শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা প্রয়োজন।
রিপন মণ্ডলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে পরিবহন খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা।
প্রতিবাদ সভা থেকে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত হয় এবং বাস মালিক-শ্রমিক ও অন্যান্য গণপরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা আর না বাড়ে।
তবে রিপন মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


