চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ইজিবাইক আটকানোর প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইজিবাইক চালকেরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন চালকেরা।
স্থানীয় সূত্র ও ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে পুলিশের সহায়তায় দামুড়হুদার ফকিরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে দর্শনা ও দামুড়হুদা থেকে চুয়াডাঙ্গামুখী ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় ইজিবাইকে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইজিবাইকে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ চালকদের।
চালকদের অভিযোগ, ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে অনেক সময় ইজিবাইক আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নেওয়া হয়। পরে আটক করা ইজিবাইক ছাড়াতে ২ হাজার ৬৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হয়। এ ছাড়া ইজিবাইক আটকের পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে চালকদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং ফকিরপাড়া এলাকায় দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে ইজিবাইক চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে রোববার সকালে আন্দোলনে নামেন চালকেরা। প্রথমে দামুড়হুদা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে শতাধিক ইজিবাইক নিয়ে জড়ো হন তারা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে অবস্থান নেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বন্ধ হয়ে যায় চুয়াডাঙ্গা ও দর্শনার মধ্যে যান চলাচল। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি রোগীবাহী যানবাহন ও শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ফকিরপাড়া এলাকায় ইজিবাইক আটকানোর জন্য স্থাপন করা ব্যারিকেড তুলে দিতে হবে এবং তাদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইজিবাইক পৌরসীমার বাইরে চলাচল বন্ধ এবং মহাসড়কে চলাচলকারী লেগুনা বন্ধের দাবিও জানান তারা।
খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) প্রবাল কুমার বসু, এসআই উত্তম ও এসআই প্রদীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে চালকেরা সড়ক থেকে সরে না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাবলী ইয়াসমিন ও দামুড়হুদা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পর চালকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভোগান্তিতে রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা
দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যানজটে আটকা পড়ে রোগীবাহী যানবাহনও। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
অবরোধ প্রত্যাহারের পর ধীরে ধীরে যানজট কমতে শুরু করে এবং মহাসড়কে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।


