চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জেলা পুলিশের ১১ সদস্যকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সভাপতিত্বে সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুলিশ সদস্যদের কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায় সদস্যদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর কী অগ্রগতি হয়েছে এবং কোন কোন সমস্যার সমাধান করা হয়েছে, তা নিয়েও পর্যালোচনা করেন পুলিশ সুপার।
পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলার বিভিন্ন থানা, ক্যাম্প ও ফাঁড়িতে ক্রোকারিজসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও ব্যবহার্য সামগ্রী দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেপ্তার, মামলার রহস্য উদঘাটন, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য ১১ পুলিশ সদস্যকে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
সভায় পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা জরুরি। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকবে, যাতে সদস্যরা দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত হন।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কঠোর নির্দেশনা
কল্যাণ সভা শেষে দুপুর ১২টায় একই স্থানে জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় মামলা তদন্তের অগ্রগতি, ওয়ারেন্ট তামিল, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমন এবং আসামিদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলা তদন্তের মান ও গতি বাড়ানো, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং মাদক ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মামলা তদন্ত কিংবা অপরাধ দমনে কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস) হিমন বিশ্বাস, জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক, টিআই (প্রশাসন), আরআই, পুলিশ লাইন্স ও বিভিন্ন ক্যাম্পের ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


