লোগো
Advertisement

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বিপিডিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ এএম
Advertisement

জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়াতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। নিজস্ব অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে মোট ৬৮৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকারি এ সংস্থা।

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি), সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে বোর্ডের মালিকানাধীন জমি ও ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ছোট ও মাঝারি আকারের প্রকল্পও স্থাপন করা হচ্ছে।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের বড় প্রকল্প

বিপিডিবির পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হচ্ছে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন। প্রকল্পটির বিস্তারিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিপিডিবি আশা করছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে রামপালের এ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা সম্ভব হবে। বড় আকারের এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে।

অন্যদিকে, ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)।

প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রামপাল ও সোনাগাজীর প্রকল্প দুটির পাশাপাশি বিপিডিবির নিজস্ব ভবন ও জমিতে ছাদভিত্তিক এবং গ্রিড-সংযুক্ত আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে চালু ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ব্যবস্থা

বড় প্রকল্পের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও স্থাপন করছে বিপিডিবি। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

এর বাইরে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

বিপিডিবি সূত্র জানায়, সংস্থাটির নিজস্ব ভবন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অন্যান্য স্থাপনায় সৌর প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে নিজস্ব অর্থায়নে এসব স্থাপনায় মোট ১৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প উৎপাদনে এসেছে। কাপ্তাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমিতে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গত বছরের নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৩০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চলতি বছরের জুনে চালু করা হয়। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০ কিলোওয়াট-পিকের আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা উৎপাদনে যায়।

সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্টে চালু করা হয়েছে ২৬৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক

বিপিডিবি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও মোট ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, কাটাখালীতে ৭৩ কিলোওয়াট-পিক এবং বাঘাবাড়ী পাওয়ার স্টেশনে ৬৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভোলার ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৯০ কিলোওয়াট-পিক, কক্সবাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৩০ কিলোওয়াট-পিক এবং কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩২ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের বিভিন্ন ভবনে সবচেয়ে বড় ছাদভিত্তিক উদ্যোগগুলোর একটি নেওয়া হয়েছে। সেখানে মোট ১ হাজার ৩০০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৭ কিলোওয়াট-পিক, চট্টগ্রাম পাওয়ার স্টেশনে ৩৯০ কিলোওয়াট-পিক, দোহাজারী-কালীআইশ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১২২ কিলোওয়াট-পিক এবং শিকলবাহা পাওয়ার প্ল্যান্টে ৭৫০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলছে।

হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ৮৬ কিলোওয়াট-পিক এবং ঘোড়াশাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও এই পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে।

অব্যবহৃত ছাদ-জমি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বাসসকে বলেন, বোর্ডের মালিকানাধীন যেসব ছাদ ও জমি বর্তমানে অব্যবহৃত রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগিয়েই নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেওয়া অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা মিলবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিদ্যমান চাপও কমানো সম্ভব হবে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যানের মতে, সরকারি সংস্থার নিজস্ব স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপনের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ বাড়ি ও ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই বড় প্রকল্পের পাশাপাশি সরকারি স্থাপনার ছাদ ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে বিপিডিবি।

সূত্র: বাসস

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...