শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রীবনানীতে ক্লাব নটরডেমিয়ান্সের বিশেষ স্বাস্থ্য সেমিনারদাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না: জামায়াত আমিরজামায়াতের লংমার্চ থেকে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ১ধর্মীয় বক্তা মিসবাহর ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে প্রকাশ্যে এলেন রোহিঙ্গা নারীহ্যাকিংয়ে চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ উদ্ধারের দাবি বাইন্যান্সেরচোখে আলো নেই, তবুও জিপিএ-৫ পেলেন মৌমিপ্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘অশ্লীল’ নৃত্য, ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তসিংহীমারী গ্রামে শিশুর কণ্ঠে লোকসংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াইঘিওরের জাবরা বাজারে মরমি সুরে শেষ হলো ৯ দিনের বাউল মেলা
বিজ্ঞাপন

সহিংসতায় জ্বলছে ফ্রান্স: ঐতিহাসিক ভবন ভস্মীভূত, আহত সহস্রাধিক পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
সহিংসতায় জ্বলছে ফ্রান্স: ঐতিহাসিক ভবন ভস্মীভূত, আহত সহস্রাধিক পুলিশ

ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নজিরবিহীন সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা। সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার চারশ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংঘাত থামিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

সহিংসতার সবচেয়ে করুণ রূপ দেখা গেছে লিমোজ শহরে। শনিবার সেখানে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ভস্মীভূত হয় উনিশ শতকের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সিটি হল। আগুনের তীব্রতায় ভবনটির ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে।

পুড়ে যাওয়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যানেইসে নামের এক স্থানীয় নারী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কষ্টের। সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ঐতিহ্যবাহী ভবন ধ্বংস করা স্বার্থপরতার পরিচয়। এতে সবারই ক্ষতি হচ্ছে।’ ধ্বংসযজ্ঞ দেখে জেরার্ড নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এটি ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য। আমরা খুবই দুঃখিত। ভবনটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লাগবে।’

রোববার ভোরে প্যারিসের চিত্রও ছিল থমথমে। ফুটপাতে ও সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাচের টুকরা সরাতে দেখা যায় দোকানমালিকদের। প্রধান সড়কগুলো থেকে ইটপাটকেল ও ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের কাজে নামেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই এবং লিল শহরেও ব্যাপকভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটতরাজ চালানো হয়েছে।

সহিংসতা দমন ও ম্যাক্রোঁর প্রতিশ্রুতি

সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে সপ্তাহান্তজুড়ে রাজপথে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করতেও দেখা যায় দাঙ্গা পুলিশকে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের সংঘাত সামাল দিতে গিয়ে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন এই কর্মকর্তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, সরকারি স্থাপনা এবং দোকানপাট সুরক্ষিত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি মেয়রদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বলপ্রয়োগের অভিযোগগুলো নিয়ে ‘পূর্ণ স্বচ্ছতা’ বজায় রেখে তদন্তের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাতের আঁচ

শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গত মাসে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, শনিবার তাতে যোগ দেয় বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও সরকারবিরোধী অন্যান্য গোষ্ঠী। ফলে প্রতিবাদ কর্মসূচি রূপ নেয় ব্যাপক সহিংসতায়। আগামী এপ্রিলে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। ভোটকে সামনে রেখে চরম ডানপন্থী ও বামপন্থী দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থানের কারণে দেশটির রাজনীতি এখন তীব্র মেরুকরণের মুখে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, বিক্ষোভ করা সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার। তবে তার অভিযোগ, কয়েক হাজার কট্টর বামপন্থী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারি ভবনে হামলা করতে এবং পুলিশের সঙ্গে সহিংসতায় জড়াতে রাজপথে নামে। পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে অপরাধী চক্রের সদস্যরা যুক্ত হয়ে বিভিন্ন শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন কট্টর বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের শীর্ষ নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশপ্রধানদের তীব্র আক্রমণ করে তাদের চরম অদক্ষ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের ‘পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে বিশেষজ্ঞ’ বলেও তোপ দাগেন তিনি।

পাল্টা অবস্থানে রয়েছেন কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালির নেত্রী মারিন ল্য পেন। রাজপথের সহিংসতার কড়া নিন্দা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে অন্যায্য সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মাঝে ফরাসি প্রশাসন এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...