৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়তে বলল মাইক্রোসফট

তবে ২০২৬ সালের পুরো বছরের জন্য মূলধনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগে এ খাতে ১৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অনুমান করা হলেও এখন তা কমিয়ে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাইক্রোসফটের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা অ্যামি হুড বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলোচনায় জানান, প্রতিষ্ঠানটির মোট ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যাচ্ছে স্বল্পমেয়াদি সম্পদ সংগ্রহে। এর মধ্যে কম্পিউটার চিপ কেনার ব্যয় উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, এআই ও প্রচলিত কম্পিউটিং; উভয় ধরনের অবকাঠামোর জন্য গ্রাহকদের চাহিদা থাকায় এ খাতে ব্যয় বাড়ছে।
প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রবণতা
এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে। এআইয়ের প্রভাবে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি হারাতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই। প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেটফ্লিক্স তাদের মোট কর্মীর প্রায় ৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে।
অনলাইন বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম ইবে চলতি মাসের শুরুতে এক হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। এর আগে চলতি বছর আরেক দফা ছাঁটাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮০০ কর্মী চাকরি হারান।
গত মে মাসে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ কমিয়েছে। এতে প্রায় আট হাজার কর্মী চাকরি হারান। এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, নতুন করে ছয় হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় সাত হাজার কর্মীকে এআইনির্ভর বিভিন্ন দায়িত্বে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
যাত্রী পরিবহনসেবা প্রতিষ্ঠান উবার গত সেপ্টেম্বরে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়। এতে আনুমানিক তিন হাজার বা তারও বেশি কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। অন্যদিকে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিল।
এর আগে গত জুলাইয়ে মাইক্রোসফটও প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে। ওই দফায় চাকরি হারানো কর্মীদের বড় অংশ ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির এক্সবক্স গেমিং বিভাগের।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে একদিকে এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগের চিত্র ফুটে উঠছে, অন্যদিকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কর্মী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রবণতাও স্পষ্ট হচ্ছে।

