ইসরায়েলে নির্বাচন: প্রথমবারের মতো রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে আরবরা

‘আরবদের বাইরে রাখা যায় না’
ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস আল জাজিরাকে বলেন, গাদি আইজেনকোটের মতো বিরোধী দলগুলোর জন্য সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর আগে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে আইজেনকোটের দলকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এসব দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
পিঙ্কাস বলেন, ‘এর জন্য মূল্য দিতে হবে।’ তাঁর ভাষায়, ‘আরবদের বাইরে রাখা যায় না; আবার যখন তাদের ভোটের প্রয়োজন হবে, শুধু তখনই তাদের বিবেচনায় নেওয়া এবং নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করাও যায় না।’ তিনি আরও বলেন, আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দাবি জানাবে, যেগুলো ইহুদি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
আরবদের ভোট নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রচার
নির্বাচনের দিন মঙ্গলবার শেষ মুহূর্তে নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী জোট সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে জোর প্রচেষ্টা চালায়। এ সময় তারা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আনে। আরব রাজনীতিকেরা এই কৌশলকে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বলে নিন্দা জানান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির পতাকাবাহী কয়েকটি গাড়ি জেরুজালেমের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে বেড়ায়। গাড়িগুলোতে উচ্চ শব্দে আজান বাজানো হচ্ছিল। পাশাপাশি সমর্থকদের ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল, কারণ ‘আরবরা ভোট দিচ্ছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে নেতানিয়াহু আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সারির ছবি তুলে ধরেন। তিনি একটি ছবিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাঁর দাবি অনুযায়ী, আরব ভোটারদের ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে নিকাব পরা নারীরাও ছিলেন। নিকাব এমন একধরনের মুখাবরণ, যা মুখের নিচের অংশ ঢেকে রাখে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যদি এখনই সজাগ না হই, তাহলে নিজেদের মানসুর আব্বাস ও আহমাদ তিবির নেতৃত্বাধীন একটি সরকারের অধীনে দেখতে পাব।’ তিনি নেসেটের দুই বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি সদস্যের কথা উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনে সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ ভোটদানের হার। প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। ঐতিহাসিকভাবে ইহুদি ইসরায়েলিদের তুলনায় তাঁদের ভোটদানের হার কম ছিল। এবারের নির্বাচনে তাঁদের ব্যাপক অংশগ্রহণের ফলে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো নেসেটে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে।

