পশ্চিম তীরে ৩ বছরে ১০৮০ জনকে হত্যা, ইসরায়েলের ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০০৮ সাল থেকে ওই তারিখ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছিল ছয়জন। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও শারীরিক-মানসিক ক্ষতিসাধনের সাতটি ঘটনা তদন্ত এবং আরও ছয়টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিরস্ত্র ছিলেন এবং কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেননি। অধিকাংশই ছিলেন শিশু, যাদের মধ্যে একটি সদ্যোজাত শিশুও ছিল।
কমিশনের ভাষ্য, ‘ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীরা কোনো সতর্কতা ছাড়াই প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছেন এবং ভুক্তভোগীদের মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন।’ কমিশনের সিদ্ধান্ত, ‘ইসরায়েলি সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে সব ভুক্তভোগীকে হত্যা করেছেন।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’কে কমিশন গাজায় প্রয়োগ করা ‘সর্বাত্মক ধ্বংসের কৌশল’ পশ্চিম তীরে সম্প্রসারণের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর ফলে ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজার ১৭৬ জন বাস্তুচ্যুত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বেইতার কাছে তুর্কি-আমেরিকান অধিকারকর্মী আয়সেনুর আইগিকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। কমিশনের মতে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হত্যার যুদ্ধাপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট সেনা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন।
এ ছাড়া ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন সহিংসতার আরও চারটি ঘটনা যাচাই করেছে কমিশন। এর মধ্যে মেগিদ্দো কারাগারে এক পুরুষ বন্দিকে বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে। তদন্তে সাক্ষীদের জবানবন্দি, ডিজিটাল ফুটেজ, উন্মুক্ত সূত্রের প্রতিবেদন এবং কিছু ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্য চেয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের কাছে দুটি করে অনুরোধ পাঠানো হলেও ফিলিস্তিন জবাব দিয়েছে, ইসরায়েল দেয়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কমিশনের সদস্যদের প্রবেশ ও সরেজমিন তদন্তের অনুমতিও দেয়নি।

