মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন—এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, কী নির্ধারণ করবে

সিনেটেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সিনেটের মোট আসন ১০০টি। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। এবার ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের আরও চারটি আসন অর্জন করতে হবে।
মেইন, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনা, আইওয়া ও জর্জিয়াসহ অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী লড়াই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম-আমেরিকান সিনেটর। অন্যদিকে আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের জনসমর্থন। তাঁর অনুমোদনের হার ৩০ শতাংশের মাঝামাঝি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং সংঘাত অবসানে ট্রাম্প প্রশাসনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
এপি-নর্ক পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৮০ শতাংশ চান, নতুন কংগ্রেস জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিক। বিশেষ করে জ্বালানির দাম কমানো এবং ইরান যুদ্ধের অবসান তাঁদের প্রত্যাশার শীর্ষে রয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। গাজা যুদ্ধের পর ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল অংশের অনেকেই ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে দুই দলের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতি জোরালো সমর্থন থাকলেও ডেমোক্র্যাট শিবিরে এ অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য বাড়ছে।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তা, ইরান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়েরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

