সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট ৭৬ টাকা, মামলার ঘোষণা

জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে থাকা সেন্টমার্টিনে একসময় ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। পরে ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চালু হয় ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেডের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। দ্বীপবাসী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিন-রাত বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হয় ৯২৫টি সোলার প্যানেল। পাশাপাশি ৪৬৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটির মাধ্যমে দ্বীপে প্রায় সাড়ে ১৫ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থায়ন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।
সেন্টমার্টিন জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে হওয়ায় সেখানে বিইআরসি নির্ধারিত সাধারণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুতের মূল্যহার প্রযোজ্য নয়। বিদ্যুৎ বিভাগের ২০১৩ সালের সৌর মিনি-গ্রিড নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিচ্ছিন্ন এলাকায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্প চালুর পর শুরুর দিকে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যেত। তখন আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ৩২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৪২ টাকা। ২০২২ সালের জুনে উভয় শ্রেণির গ্রাহকের জন্য পাঁচ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়। এরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ কমতে থাকে। ২০২৩ সালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বলে ইউনিটপ্রতি দাম আরও ১০ টাকা বাড়ায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের না জানিয়েই কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, বিদ্যুতের বিল রিচার্জের সময় বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে রাখা হয়। এক হাজার টাকা রিচার্জ করলে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়। কোন খাতে কত টাকা কাটা হচ্ছে, তারও স্পষ্ট হিসাব দেওয়া হয় না। ফলে প্রকৃতপক্ষে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত পড়ছে, তা বুঝতে পারছেন না গ্রাহকেরা।

