সৌদির বিমানবন্দরে হামলা ও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবে সম্ভাব্য বিমানবন্দর হামলা, আকাশসীমা বন্ধ এবং ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন মিশন। খবর গালফ নিউজের।
মার্কিন মিশনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৩ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।
সতর্কবার্তায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের পাশাপাশি পরিবহনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন মিশন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে এবং সংঘাতের প্রভাব বর্তমান আক্রান্ত এলাকাগুলোর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর পরিস্থিতি
দেশটির প্রধান বিমানবন্দরগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন মিশন জানিয়েছে, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২৩ অক্টোবর থেকে আংশিকভাবে চালু রয়েছে। সেখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের পাশাপাশি সৌদি জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। রিয়াদগামী কিছু ফ্লাইট কাসিমের প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু থাকলেও কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হচ্ছে। একই অবস্থা দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও।
যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের আগে মিশনপ্রধানের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
কিছু এলাকায় মার্কিন কর্মকর্তাদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ইয়েমেন সীমান্তের ২০ মাইলের মধ্যে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া জিজান, আসির ও নাজরান প্রদেশ এবং কাতিফ, ইয়ানবু ও তায়েফে যেতে বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হবে।
মার্কিন মিশন নাগরিকদের সৌদি বিমানবন্দর ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি সম্ভাব্য হামলা, আকাশসীমা বন্ধ এবং ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে সজাগ থাকতে বলেছে।
স্থলপথে যাতায়াতের বিকল্প
সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের সব স্থলসীমান্ত ক্রসিং বর্তমানে চালু রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযুক্তকারী কিং ফাহাদ কজওয়েও রয়েছে। রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরান শহর এবং আশপাশের মহাসড়ক ও সড়কগুলোও সচল রয়েছে।
বিমান চলাচল ব্যাহত হলে বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রেন ও বাস ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে পারেন যাত্রীরা। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরাবিয়া রেলওয়েজ, স্যাট ট্রান্সপোর্টেশন ও স্যাপটকোর মতো পরিবহন সেবার কথা উল্লেখ করেছে মার্কিন মিশন। তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময়সূচি ও আসনপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী বাহরাইন, জর্ডান, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরগুলোও চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন মিশন। এসবের মধ্যে রয়েছে বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আম্মানের কুইন আলিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মাসকাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দোহা, আবুধাবি, দুবাই ও শারজাহর বিমানবন্দর।

