ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনড় রাশিয়া, জি-২০ বৈঠকে পশ্চিমাদের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধ

রুবিও-লাভরভের বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা
বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আন্তসংযুক্ত অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুহূর্তে’ দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি জি-২০ সদস্যদেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, জাপান ও রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো এই জোটের সদস্য।
রুবিও বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকের ফাঁকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন রুবিও। পরে লাভরভ জানান, তাঁদের মধ্যে ‘সন্তোষজনক আলোচনা’ হয়েছে।
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন লাভরভও।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে কোনো কিছুই আর স্বাভাবিক নেই।’ তিনি আরও জানান, কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইউক্রেনের দেওয়া প্রস্তাব মেনে নিতে রাশিয়ার প্রতি আবারও আহ্বান জানানো হবে।
আটলান্টায় রুবিও ও লাভরভের যোগাযোগ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ, ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে মস্কোর সহযোগিতাও চাইছে ওয়াশিংটন। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জ্বালানির মূল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু।
জি-২০ বৈঠকে লাভরভের অংশগ্রহণের আগে আগামী নভেম্বর মাসে মস্কো, কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন দফার আলোচনার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর জি-২০-এর বিভিন্ন আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র রুশ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, জোটের সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে লাভরভের উপস্থিতি খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না।
ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মার্কিন নাগরিকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ায় রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে মস্কোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছেন।
আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
জি-২০ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, জরুরি সংকট মোকাবিলা এবং কোনো ধরনের হুমকি বা টোল ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে দেশগুলোর অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইরান পরিস্থিতিও জি-২০ বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

