মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বি. এন. খান কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার অভিযোগ হিন্দু পরিবারেরসৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশসেরা কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়আইসিসির বিশেষ দায়িত্বে বাংলাদেশের আম্পায়ার গাজী সোহেলনাগরিকদের ৩ দিনের খাবার-পানি মজুতের নির্দেশনা এশিয়ার এক দেশেরব্যানার-তোরণ নয়, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে রং-তুলিতে বদলে যাচ্ছে খুলনাপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর হস্তক্ষেপে নতুন ভবন পেল পাহাড়ি স্কুলভুয়া চাকরির ইন্টারভিউয়ের ফাঁদ পেতে বাইন্যান্স থেকে চুরি হয় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারভারতের চোখে বাংলাদেশ সবচেয়ে শক্তিশালীএবার আফগানিস্তানের লিগেও সাকিব, খেলবেন কোন দলেশ্রীপুরে অপহরণের ১০ ঘণ্টা পর উদ্ধার ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা, গ্রেপ্তার ৩
বিজ্ঞাপন

টাকার লোভ সামলাতে পারিনি: ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
টাকার লোভ সামলাতে পারিনি: ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ

পিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই রাতে শাম্মী আহম্মেদ গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন, এমন খবর পেয়ে কয়েকজন নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে গুলশান-২ গোলচত্বরে জড়ো হন। পরে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু রাত আনুমানিক ২টার দিকে গুলশান থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান ও তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানোর ব্যবস্থা করতে বলেন পুলিশকে। থানা-পুলিশ বিষয়টি গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে জানায়। পরে পুলিশ ও কথিত সমন্বয়কদের একটি দল বাসায় যায়। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ১৭ জুলাই ভোরে গুলশান থানার এসআই আরমান আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশের সদস্য এবং আবদুর রাজ্জাক, জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন, আমিনুল ইসলামসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন ওই বাসায় যান। তারা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কক্ষে সাবেক এমপিকে খোঁজেন।

শাম্মী আহম্মেদকে না পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তল্লাশির একটি তালিকা তৈরি করে সবাই বাসা থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আবার বাসাটিতে যান।

পিবিআইয়ের তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, তারা বাদীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। গ্রেপ্তার এড়াতে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। ভয়ভীতির মুখে বাদী টাকা দিতে রাজি হন। তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পর আসামিরা বাকি ৪০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলে চলে যান। টাকা নেওয়ার ভিডিও ফুটেজও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আবার ওই বাসায় যান। ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও কেউ দরজা না খোলায় তারা চলে যান। পিবিআই জানায়, পরে পাওয়া কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করে ওই সময় তাদের ঘটনাস্থলে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পিবিআইয়ের তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য আবার ওই বাসার সামনে যান আসামিরা। তখন বাদী বাসায় ছিলেন না। বাসার নিরাপত্তাকর্মী মো. হান্নান ফোনে তাকে বিষয়টি জানান। বাদী সঙ্গে সঙ্গে গুলশান থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলামকে আটক করে। জানে আলম অপু পালিয়ে যান। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় তাকেও গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তদন্ত নথিতে তাদের দুজনের জবানবন্দিতে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি আবদুর রাজ্জাক রিয়াদের আইনজীবী আকরাম হোসাইন বলেন, তারা এখনো অভিযোগপত্র দেখেননি। রিয়াদের পক্ষে আদালতে পিটিশন করবেন।

বাদী সিদ্দিক আবু জাফরের আইনজীবী জহুরুল আলম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। তারা ন্যায়বিচার চান।

অন্যদিকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী পরিচয় দেওয়া আবদুর রাজ্জাক রিয়াদ এই চাঁদাবাজির হোতা। তাকে ওই সময়ে আদালত একাধিকবার রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন। চাঁদাবাজির মামলায় প্রত্যেক আসামিকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী বিচার হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...