নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয়

অ্যামিগডালা অতিরিক্ত সক্রিয় ও বড় হয়ে যায়
অ্যামিগডালা হলো মস্তিষ্কের ভয় ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। নার্সিসিস্টের সঙ্গে থাকার সময় ভুক্তভোগীকে সব সময় একধরনের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্যে বাস করতে হয়। ফলে অ্যামিগডালা সব সময় অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে এবং ক্রমাগত উদ্দীপনার কারণে এটি আকারে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভুক্তভোগী সব সময় একধরনের দীর্ঘস্থায়ী সতর্কাবস্থা বা হাইপারভিজিলেন্সে ভোগেন। সামান্য আওয়াজ বা সাধারণ কোনো ঘটনাতেও তিনি প্যানিক অ্যাটাক, তীব্র ভয়, উদ্বেগ ও ট্রমা ফ্ল্যাশব্যাকে আক্রান্ত হন।

প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যক্ষমতা হ্রাস
প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স মানুষের মস্তিষ্কের একেবারে সামনের অংশ, যা যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, পরিকল্পনা করা এবং সামাজিক আচরণ পরিচালনার জন্য দায়ী। অ্যামিগডালা যখন অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন এটি প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের যৌক্তিক ক্ষমতাকে ব্লক করে দেয়। ক্রমাগত মানসিক ট্রমার কারণে এই অংশের কার্যকারিতা ও রক্ত সঞ্চালন কমে যায় এবং এটিও সংকুচিত হতে পারে। এর কারণে ভুক্তভোগী কোনো বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খান, তীব্র মানসিক ক্লান্তি বা ব্রেন ফগ অনুভব করেন এবং নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন।
অন্যান্য সমস্যা
মস্তিষ্কের এই গাঠনিক পরিবর্তনের ফলে ভুক্তভোগীর শরীরে আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি লক্ষণ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই নির্যাতনের ফলে জটিল পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার দেখা দেয়, যা মানুষকে একধরনের মানসিক অবশতার দিকে ঠেলে দেয়। মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা গভীর বিষণ্নতা ও তীব্র উদ্বেগের জন্ম দেয়। এ ছাড়া গ্যাসলাইটিং বা সত্যকে বিকৃত করার অভ্যাসের কারণে মস্তিষ্ক স্মৃতিগুলোকে যুক্তিসংগতভাবে সাজাতে পারে না। স্মৃতিগুলো এলোমেলো বা টুকরো টুকরো মনে হয়।

