লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়িমার্চ করছে: চুয়াডাঙ্গায় সংস্কৃতিমন্ত্রী

লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট মূলত 'গাড়িমার্চ' করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার থাকলেও পায়ে হেঁটে পথ অতিক্রম করাই লংমার্চের প্রকৃত ইতিহাস।
গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ঐক্যজোটের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, 'লংমার্চের ইতিহাস হচ্ছে-লংমার্চ পায়ে হেঁটে করতে হয়। কিন্তু তারা যেটা করছে, সেটাকে গাড়িমার্চ বলে। এই গাড়িমার্চের মাধ্যমেই তারা তাদের কথা বলবে, মানুষ শুনবে। এগুলো নিয়ে আমাদের মন্তব্য নেই। এটি তাদের ব্যাপার। আমরা চাই, একটা দেশে যাদের রাজনীতি করার অধিকার আছে, তারা রাজনীতি করুক।'
সামাজিক সমস্যা রোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ
সার্কিট হাউজের ওই মতবিনিময়সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংকট নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী। বিশেষ করে মাদক কারবার, চোরাচালান, বাল্যবিয়ে এবং আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। জননিরাপত্তা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, 'দেশের আইনশৃঙ্খলা ধীরে ধীরে ঠিক হচ্ছে। আশা করছি, চুয়াডাঙ্গাতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনসহ সকলকে কাজ করতে হবে। তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবসময় স্বাভাবিক থাকবে।'
মতবিনিময়সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ ও পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সেখানে অংশ নেন।
সার্কিট হাউজের কর্মসূচি শেষ করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে যান। সেখানে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

