হরিণাকুণ্ডু বিটিসিএল কার্যালয়ের কাঁঠাল গাছ বিক্রির অভিযোগ, ডালপালা কেটে সাবাড়

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কার্যালয়ের অন্তত ছয়টি কাঁঠাল গাছের পাতা ও ডালপালা অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেখানকার লাইনম্যান ও ইনচার্জ মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে। নির্মমভাবে ডালপালা ও পাতা ছেঁটে ফেলার কারণে মূল্যবান গাছগুলো এখন পুরোপুরি শুকিয়ে মরতে বসেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিটিসিএল কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পাতা ব্যবসায়ীরা বিশালাকার তিনটি কাঁঠাল গাছের ডাল ও পাতা পুরোপুরি ছেঁটে তা আঁটি বাঁধছেন। কাণ্ড ছাড়া গাছগুলোতে কোনো ডাল বা পাতার অস্তিত্ব ছিল না। উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে বিক্রি করার জন্য ইনচার্জ মুকুল হোসেনের কাছ থেকে তাঁরা ২ হাজার ৫০০ টাকায় ছয়টি গাছের ডাল-পাতা কিনেছেন। এর মধ্যে তিনটি গাছের ডালপালা শনিবার কাটা হয়েছে এবং বাকি তিনটির ডালপালা পরে কাটা হবে।
সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে ইনচার্জ মুকুল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ভবন থেকে নেমে এসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে ধমকের সুরে তাঁরা বলেন, ভবনে পর্যাপ্ত রোদ আসে না বলেই ডাল-পাতা কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে। এভাবে ছাঁটাইয়ের কারণে গাছ মারা যেতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে তাঁরা দাবি করেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জানা রয়েছে এবং এ নিয়ে তাঁরা কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। তবে আড়াই হাজার টাকায় পাতা বিক্রির বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা বন কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমানায় থাকা বৃক্ষ রক্ষা করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু ছায়া আটকানোর অজুহাতে এভাবে ডাল-পাতা কেটে গাছকে ধ্বংস ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া স্পষ্টতই বৃক্ষ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন। বন বিভাগের অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়া সরকারি সম্পদ এভাবে বিনষ্ট বা বিক্রি করা পুরোপুরি বেআইনি। বিষয়টি তদন্ত করে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রদীপ রায় দীপন মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাধীন হলেও তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছের পাতা ও ডালপালা এভাবে নির্বিচারে কাটা কোনোভাবেই আইনসম্মত হতে পারে না। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ ও সুপারিশ করা হবে।
জেলা বিটিসিএলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী টেলিকম ম্যানেজার পল্লবী ঘোষ জানান, অফিসের প্রয়োজনে অনেক সময় স্থানীয়দের মাধ্যমে দু-একটি ছোট ডাল ছাঁটার কথা বলা হতে পারে। কিন্তু গাছ ধ্বংসের মুখে ফেলা কোনোভাবেই বিধিসম্মত নয়। তিনি যদি পাতা ও ডালপালা বিক্রি করে থাকেন, তবে তা গুরুতর অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে। তদন্তের পর তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন, মুকুল হোসেন বিটিসিএল কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই কোনো টেন্ডার ছাড়াই দপ্তরের ছোট-বড় গাছ ও ডালপালা কেটে কাঠ ব্যবসায়ী ও ইটভাটায় বিক্রি করে আসছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

