“মাদক কারবারিদের স্থান আর জয়রামপুরে হবে না।” ঠিক এভাবেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। একই সঙ্গে যারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, হয়রানির ভয় না পেয়ে তাদেরকে বুক ফুলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দামুড়হুদার জয়রামপুরে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসপি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এক মাদক কারবারি সবার সামনে অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে ফেরার শপথ নেন।
মাদকের বিরুদ্ধে জয়রামপুর যুব সমাজের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে পুলিশ সুপার বলেন, “যেভাবে এখানে সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি মাদক কারবারি ও সেবীদের আহ্বান জানাই, আপনারা ভালো পথে ফিরে আসুন। আর যুবকদের বলছি, আপনারা নজর রাখুন। কারবারিরা নজরে এলেই আমাদের জানান, আমরা ব্যবস্থা নেব।”
মাদকবিরোধী কাজ করতে গিয়ে মিথ্যা হয়রানির শঙ্কার বিষয়টিও নিজ বক্তব্যে পরিষ্কার করেন এসপি। অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকের নামে নারী নির্যাতন বা ভুয়া মামলা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শুনেছি। আমি কথা দিচ্ছি, এসব বানোয়াট মামলা দিয়ে আপনাদের কোনো ক্ষতি করা যাবে না। আপনারা নির্ভয়ে, নিঃসঙ্কোচে বুক ফুলিয়ে সমাজের জন্য কাজ করুন। পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে।”
অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে যুবক, এসপির ফুলেল শুভেচ্ছা:
সমাবেশের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন এক যুবক দীর্ঘদিনের মাদক কারবার ও সেবনের পথ ছেড়ে প্রকাশ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা দেন। এ সময় পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান নিজ হাতে একটি গোলাপ ফুল দিয়ে ওই যুবককে বরণ করে নেন।
এসপি হাসিমুখে ওই যুবকের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলেন, “আল্লাহ তোমাকে অনেক সুন্দর চেহারা দিয়েছেন। আজ থেকে তুমি আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে।”
উত্তরে ওই যুবক মাইক হাতে নিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন এই জগতের সাথে ছিলাম। কিন্তু আজ থেকে এই পথ থেকে পুরোপুরি সরে এসেছি। যারা আমাকে চেনেন তারা জানেন, বেশ কিছুদিন ধরেই আমি এর বাইরে আছি। আমি আর কখনোই ওই পথে পা বাড়াব না।” এ সময় উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে তাকে উৎসাহ জোগান।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পুলিশ সুপার এই আয়োজনের নেপথ্যে থাকা জয়রামপুর যুব সমাজ মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের নাম ধরে ধরে ধন্যবাদ জানান। তিনি ফারুক, তারিক, শাহিন, মানিক, বাবু, উজ্জ্বল, রানা, স্বাধীনসহ বেশ কয়েকজন তরুণের নাম উচ্চারণ করেন। যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করে এসপি বলেন, “যাদের পরিশ্রমে আজকের এই আয়োজন, তাদের সবার নাম হয়তো বলতে পারলাম না, কিন্তু তাদের নাম আমার অন্তরে গাঁথা থাকবে।”
সমাবেশে দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তির এমন কঠোর অথচ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জয়রামপুরবাসী।


