উৎসবমুখর পরিবেশে পর্দা নেমেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর। শনিবার ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌর ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে আলমডাঙ্গা উপজেলা ফুটবল দল।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন ঐতিহাসিক পুরাতন ফুটবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলের কেউই গোল করতে না পারায় ম্যাচের ফল নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় পেনাল্টি শুটআউটের।
টাইব্রেকারে শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত আলমডাঙ্গা উপজেলা দল ৪টি পেনাল্টি থেকে গোল করতে সক্ষম হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌর দল করে ৩টি গোল। ফলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা।
ফাইনালকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুরাতন ফুটবল স্টেডিয়াম এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা মাঠে এসে ভিড় করেন। আয়োজকদের হিসাবে, প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে দুই দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।
ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন। টুর্নামেন্টের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারও মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিনহাজ-উল-ইসলাম এবং পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)।
খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠকসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
৯০ মিনিটের খেলায় দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে আলমডাঙ্গা উপজেলা দলের খেলোয়াড়দের সাফল্যে নির্ধারিত হয় টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
আলমডাঙ্গা উপজেলা দলের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের ডিসি গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। জমজমাট এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হলে জেলার তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ আরও বাড়বে।


