রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানোর ফজিলত ও অফুরন্ত সওয়াব

নিজস্ব প্রতিবেদক১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানোর ফজিলত ও অফুরন্ত সওয়াব

সৃষ্টিজগতের টিকে থাকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি মহান আল্লাহর দান করা অমূল্য নেয়ামত পানি। মানুষের তৃষ্ণা মেটানো থেকে শুরু করে পশু-পাখির জীবনধারণ, ফসলি জমিনে সজীবতা ফেরানো কিংবা গাছে ফলমূল ধরা—সবকিছুতেই পানির ভূমিকা অনস্বীকার্য। পানির ওপর ভর করেই বেঁচে আছে পৃথিবীর সমস্ত জীব। এই কারণে তৃষ্ণার্ত কারও মুখে পানি তুলে দেওয়ার আমল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি এনে দেয় এবং বান্দার পাপ মোচনের উপলক্ষ তৈরি করে।

জীবের প্রতি দয়ায় রহমতের বারিধারা

শুধু মানুষকে নয়, যেকোনো সৃষ্টিজীবকে পানি পান করালেও রয়েছে সওয়াব। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত একটি প্রাণীর মুখে পানি তুলে দিয়ে আল্লাহর বিশেষ রহমত পেয়েছিলেন এক পাপী বান্দাও। জীবের প্রতি এই সহানুভূতিশীল আচরণ ক্ষমার পথ উন্মুক্ত করে দেয়।

উত্তম সদকার স্বীকৃতি

কাউকে পানি পান করানোকে অনন্য মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। হাদিসে এসেছে, সাহাবি হজরত সাদ ইবনে উবাদা (রা.) এক দিন নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, কোন সদকা উত্তম?’ জবাবে তিনি বললেন, ‘পানি পান করানো।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩৬৬৫)

সদকা মানুষের বিপদ-আপদ দূর করে এবং পরকালেও বিরাট প্রতিদান নিশ্চিত করে। আর পানির মাধ্যমে সদকার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘পানি পান করানো অপেক্ষা অধিক সওয়াবপূর্ণ সদকা আর নেই।’ (সহিহ আত-তারগিব, হাদিস: ৯৬০)

মৃতের পক্ষ থেকে পানির উৎস তৈরি

সাহাবি হজরত সাদ বিন উবাদাহ (রা.) একবার নবীজির কাছে এসে আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, উম্মে সাদ মৃত্যুবরণ করেছেন। (তার পক্ষ থেকে) কোন সদকা সর্বোত্তম হবে?’ নবীজি সংক্ষেপে উত্তর দিলেন, ‘পানি পান করানো।’ এরপর বর্ণনাকারী জানান, সাদ (রা.) একটি কূপ খনন করালেন এবং বললেন, ‘এটা উম্মে সাদের জন্য ওয়াকফ করা হলো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬৮৩)

পানি পানের নানা উপায়

তৃষ্ণার্তের পিপাসা মেটানোর আমলটি বিভিন্ন উপায়ে করা সম্ভব। খুব সাধারণ এক গ্লাস কিংবা এক বোতল পানি দিয়েও যেমন কারও তৃষ্ণা নিবারণ করা যায়, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে পানির কূপ, টিউবওয়েল অথবা পানির ট্যাপ স্থাপন করে দেওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পানির কূপ খনন করল আর সে কূপ থেকে মানুষ বা কোনো পাখি পানি পান করল, এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন সওয়াব দেবেন।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১২৯২)

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...