সরকার জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে: মামুনুল হক

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেননি মন্তব্য করে মামুনুল হক বলেন, এর মাধ্যমে গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে দেওয়া জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কারের পথে এগিয়ে আসে, তাহলে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের প্রয়োজন থাকবে না। কিন্তু জনগণের ভোটাধিকার ও গণরায়কে অবজ্ঞা করা হলে অতীতের স্বৈরাচারী শাসকদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার করা হলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এককভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকার সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং প্রশাসন ও পুলিশকে দলীয়করণমুক্ত করতে হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের জন্য পৃথক বিচারব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। আড়াইহাজার থানা শাখার নাগরিক সমাবেশের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও একজন সংসদ সদস্যের নির্দেশে প্রশাসন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রাজনৈতিক বৈষম্য অব্যাহত থাকলে দেশে আবারও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণবিপ্লবের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
দেশের অর্থনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে সংকটের মুখে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অথচ উৎপাদন ব্যয় কমছে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ খাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কার্যকর সংস্কার জরুরি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা উবায়দুল কাদের নদবী প্রমুখ।

