তদন্ত ঘুরপাক খাচ্ছে ১৫ মিনিটে, কী ঘটেছিল তখন তাহসিফের সঙ্গে

টঙ্গীতে কেন যেতে চেয়েছিলেন তাহসিফ
তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীপের দেওয়া বক্তব্যে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে তাহসিফ, ওই তরুণী ও তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি বারে যান। এর আগে ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য এক যুবকের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে মন খারাপ ছিল তাহসিফের। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধও চলছিল।
দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে সাউন্ড সিস্টেমে স্যাড গান (বিষণ্ন সংগীত) বাজাতে বলেন। পরে তিনজনই মদ্যপান করেন। রাত ১২টা পর্যন্ত ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক নিয়ে তাহসিফের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে উদ্দেশ্য করে তাহসিফ বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় কিছু খাব। আমি হেরোইন খাব।’
রাত ১২টার দিকে বার থেকে বের হয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে ওই তরুণীকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় পৌঁছে দেন। দীপও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গী বাজার বস্তি-সংলগ্ন একটি মাঠের উদ্দেশে রওনা হন। দীপের দাবি, সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাহসিফ নিজেই।
দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, বস্তির কাছে মোটরসাইকেল রেখে তাঁরা মাঠের দিকে যান। সেখানে স্থানীয় মাদকসেবী ও কারবারিসহ অনেক মানুষ ছিলেন। তাহসিফ উচ্চ স্বরে হেরোইন চান এবং যত টাকা লাগে দিতে রাজি হন। পরে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে হেরোইন কিনে সেবন করেন। বারে মদ্যপানের পর হেরোইন সেবনে তাহসিফ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলেও দাবি করেন দীপ।
এরপরই আসে পুলিশ। দীপের ভাষ্য, তাহসিফ যখন মাদক সেবন করছিলেন, তখন সেখানে পুলিশের একটি টহল দল আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান। দীপও দৌড়ে নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। পরে তুরাগ নদের ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে গিয়ে লুকিয়ে থাকেন। এ সময় তাহসিফের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি। এরপর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তাঁর বক্তব্যই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

