কুমিল্লায় কিশোর অপরাধ ও ‘কিশোর গ্যাং’ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিও রয়েছেন। আটক সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তথ্য যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় এক রাতেই ৭৫ জনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের অনেকে থানার সামনে ভিড় করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ সন্তানকে ছাড়িয়ে নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসেন, আবার কেউ আটকের কারণ জানতে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিষয়ে পুলিশ সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখছে। সন্ধ্যার পর অনেক কিশোর কোথায় যায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটায়, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ৭৫ জনের মধ্যে কয়েকজনের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, ছিনতাই ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। কারও বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তবে অনেককে শুধুমাত্র বখাটেপনা বা আড্ডাবাজির অভিযোগে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে অনেককে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন থানায় আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের দিনভর অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অভিভাবকদের অনেকে পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানি বা শাস্তির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অপরাধে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়।
অন্যদিকে, দাউদকান্দি থানায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন থানা কক্ষের দরজা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশের দাবি, একই কক্ষে অতিরিক্ত লোক রাখায় সেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজন পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ধরে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেয়।


