পাওনা দিতে ডেকে ব্যবসায়ীর আড়াই লাখ টাকা ছিনতাই, অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

রুবেলের দাবি, হামলাকারীদের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় তাঁর। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত রুবেলকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে রুবেলকে মারধর করতে দেখা যায়। ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও রয়েছে। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া, আল আমিনকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দিতেও দেখা যায়। আরেকটি দৃশ্যে রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিতে দেখা যায়।
রুবেল হোসেন বলেন, ‘হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই প্রকাশ্যে আমার বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আরও তিনজনকে তাঁর লোকজন দিয়ে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। আমার মতো আর কেউ যেন এমন হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘টেলিভিশন কেনার সুবাদে রুবেল আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে ১৬ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে হেলিপ্যাড এলাকায় (হাটখোলা বাজার) কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসি। কিন্তু সেখানেও রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার ঘটনা সত্য নয়।’
আল আমিন আরও বলেন, ‘তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমি আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁকে টাকা দেননি, সেটা আমার জানা ছিল না। রুবেল টাকা পাবেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি আমাকে যখন-তখন অসম্মানজনক কথা বলেছেন। সে কারণেই আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে।’
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, মারধরের ঘটনায় ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

