রিক্রুটিং এজেন্সির গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু হয়নি, অনিশ্চয়তায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম বলেন, ২০২০ সালে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর শ্রেণিবিন্যাসের ব্যবস্থা চালু করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। বিদেশে নিজস্ব প্রতিনিধি থাকার পরিবর্তে এজেন্সিগুলো কেন ভিসার মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়া কিংবা বিদেশে যাওয়ার তিন মাসের মধ্যে দেশে ফিরে আসার ঘটনাগুলোর কারণ অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের আইনজীবী ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আইনে সাব-এজেন্টদের স্বীকৃতি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ২০২৩ সালের আইনি সংশোধন এবং ২০২৫ সালের বিধিমালার প্রসঙ্গ তুলে তিনি নিবন্ধিত মধ্যস্থতাকারীদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রেহনুমা সালাম খান বলেন, সমস্যার গভীরে রয়েছে সুশাসনের ঘাটতি। কতজন কর্মী বিদেশে পাঠানো হলো, শুধু সেই সংখ্যা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ না করে তাঁদের দক্ষতা, কর্মপরিবেশ, সুরক্ষা এবং অভিবাসীদের অভিযোগ কমছে কি না—এসব বিষয় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম সচিব ফখরুল ইসলাম নিয়োগপ্রক্রিয়ার অনলাইন রেকর্ড রাখার প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, নির্বাচিত কর্মী ও অনুমোদিত খরচের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ এবং ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে স্বচ্ছতা বাড়বে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ, চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রতিনিধি আহমেদ আজিজ নিয়োগপ্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার এবং সহজলভ্য অভিযোগ ব্যবস্থার আহ্বান জানান। অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পরিমাপেরও তাগিদ দেন তিনি।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক জানান, অভিবাসন ব্যয় পর্যালোচনায় একটি কমিটি কাজ করছে। তবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর চাপের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিয়োগ সীমিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পেরি কর্মসূচির আওতায় উইটনেস ফাউন্ডেশন ঢাকার হলিডে ইন সিটি সেন্টারে এ সংলাপের আয়োজন করে।

