শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে আ. লীগের ১১ নেতাকর্মী আটক

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এ আন্দোলনে রোববার (১ নভেম্বর) পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের অভিযোগ, শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে। এ অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। শনিবার (৩১ নভেম্বর) থেকে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। রোববারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।’
ডিসি রাকিব খাঁন জানান, সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছে। আন্দোলনস্থল থেকে এ পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।’
পুলিশের দাবি, মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা নাশকতার বিষয়টি সমন্বয় করছেন এবং ঢাকার বাইরে থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় এনে আন্দোলনের মধ্যে সক্রিয় করেছেন। প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিল। তাদের শনাক্ত করে আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

