রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৯ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৯ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

এর মধ্যে তারাকান্দার এইচ. এ. ডিজিটাল কলেজের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে কোনো শিক্ষা কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একসময় ভাড়া করা জায়গায় কলেজটির কার্যক্রম চললেও বর্তমানে সেখানে পাঠদান হয় না।

ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম জানান, কাগজে-কলমে কলেজটিতে ১০ জন শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে সাতজন শিক্ষক থাকলেও কেউ কলেজে আসেন না। কলেজ শাখাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তাঁরা বেতন পান না। প্রায় ১০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করার পর শিক্ষকেরা কার্যক্রম থেকে সরে গেছেন। এবার প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। শিক্ষকদের বারবার নোটিশ দিয়েও ফেরাতে পারেননি জানিয়ে তিনি কলেজ শাখার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করার কথা জানান।

অন্যদিকে, কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো কলেজটি থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ছয়জনের কেউ পাস করতে পারেননি। কলেজ শাখায় তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। স্কুল শাখার আরও দুজন শিক্ষক অতিরিক্ত দায়িত্বে ক্লাস নিয়েছেন। শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও আগামীতে ভালো ফলের আশা করছেন তাঁরা।

নেত্রকোনার অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জুবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজে ছয়জন, খালিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজে চারজন করে, কলমাকান্দা মহিলা কলেজে দুজন এবং কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজে একজন পরীক্ষার্থী ছিলেন। জামালপুরের গোয়ালচর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে সাতজন, শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা আকন্দ গার্লস স্কুলে ছয়জন, নলবেছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে চারজন এবং এস. এম. শিক্ষা মুখলেছুর রহমান কলেজে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। শেরপুরের মনমথ দে কলেজে সাতজন এবং আলহাজ এস. এম. এ. ওয়ারেজ নঈম মডেল কলেজে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি গত সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিষ্ঠান দুটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ. জ. ম. রেজাউল করিম খান বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনে শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ এমপিও বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...