সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

এক সন্ধ্যায় দুই সোনালি প্রজন্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
এক সন্ধ্যায় দুই সোনালি প্রজন্ম

জাতীয় স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের ঝলমলে আলো। সেই আলোয় উজ্জ্বল সবুজ মাঠে একে একে নামছেন আলফাজ আহমেদ, আমিনুল হক, আরমান মিয়া, এনামুল হক, জাহিদ হাসান এমিলি, মামুনুল ইসলামরা। কারও গায়ে ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের জার্সি, আবার কারও গায়ে ২০১০ সালের এসএ গেমসে সোনাজয়ী দলের। বয়স বেড়েছে, কেউ ফুটবল ছেড়েছেন অনেক দিন, কেউ আছেন ভিন্ন পেশায়। কিন্তু মাঠে নামতেই যেন ফিরে এলেন পুরোনো দিনে। পায়ে বল, চোখে সেই সাফল্যের ক্ষুধা।

জাতীয় স্টেডিয়ামের এমন ঘাসে ২০০৩ সালে প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ৭ বছর পর একই মাঠে এসএ গেমসের ফুটবলে এসেছিল সোনার পদক। সেই দুই সাফল্যের নায়কেরা আজ সন্ধ্যায় আবার একসঙ্গে। উপলক্ষ—আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে ৬০ মিনিটের এই ম্যাচে শিরোপা কিংবা পয়েন্টের হিসাব ছিল না; ছিল স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার আনন্দ, পুরোনো সতীর্থদের সঙ্গে আবার মাঠ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ।

বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই জাহিদ হোসেনের গোলে এগিয়ে যায় এসএ গেমসের সোনাজয়ী দল। পেনাল্টি থেকে গোল করে ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলকে সমতায় ফেরান আলফাজ। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জেতে ২০১০ সালের দল। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি পেয়েও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা। আমিনুল হকের শট সহজে ঠেকিয়ে দেন বিপ্লব ভট্টাচার্য। তবে স্কোরলাইনের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল মাঠে দুই প্রজন্মের তারকাদের উপস্থিতি।

২০০৩ সালের সাফ ফাইনালে এই মাঠেই শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলেন রজনীকান্ত, আলফাজ, আমিনুলরা। ২০১০ সালে একই মাঠে এসএ গেমসের স্বর্ণপদক জয়ের স্মৃতি নিয়ে ফিরেছেন জাহিদ, ইউসুফ, মিন্টু, এনামুল, এমিলিরা। সেদিনের সেই বিজয়ী মুহূর্তগুলো যেন আবার চোখের সামনে ভেসে উঠল তাঁদের। বিরতিতে ১ মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানানো হয় ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের প্রয়াত কোচ জর্জ কোটানকে।

২০০৩ ও ২০১০—দুই দলেরই সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক খেলেছেন দুই পক্ষের হয়ে। প্রথমার্ধে সাফজয়ী দলের ৯ নম্বর, দ্বিতীয়ার্ধে এসএ গেমসের দলের ১ নম্বর জার্সিতে। সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে বাংলাদেশকে অনুপ্রেরণা জানাতেই এমন আয়োজন। আমিনুল বলেন, ‘আগামী ৫ নভেম্বর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানাতে এবং বাংলাদেশ দলকে উৎসাহিত করতে আজ ২০০৩ ও ২০১০-এর দুই চ্যাম্পিয়ন দল একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছি।’

মাঠের খেলা শেষ হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। কিন্তু জাতীয় স্টেডিয়ামে তখনো যেন শেষ হয়নি ২০০৩ ও ২০১০ সালের সেই সোনালি দিনের গল্প।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...