ব্যালন ডি’অরের সর্বকালের সেরা মৌসুমের লড়াইয়ে মেসিকে পেছনে ফেললেন রোনালদো

ফুটবল দুনিয়ায় লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা বহু পুরোনো। ব্যালন ডি’অরের এক বিশেষ ভোটাভুটিতে নতুন করে সামনে এসেছে দুই তারকার সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম নির্বাচনে সমর্থকদের ভোটে পর্তুগিজ তারকা এখন পর্যন্ত অনেকটা ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রীড়ামোদীদের মাঝে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ডট নেটের রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের পক্ষে পড়েছে সর্বোচ্চ ৬২ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯১ গোলের রেকর্ড গড়া মেসির ২০১২ সালের ঐতিহাসিক মৌসুমটি পেয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ ভোট। এছাড়া ২০২৩ সালে মেসির সবশেষ ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমটি ৯ শতাংশ ভোট নিয়ে এর পরের ধাপে রয়েছে।
৭০ বছর পূর্তির বিশেষ আয়োজন
মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের ৭০ বছর পূর্তি ঘিরে ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ শিরোনামে এই বিশেষ উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। ক্যারিয়ারে অন্তত দুইবার ব্যালন ডি’অর ঘরে তোলা ১০ কিংবদন্তিকে রাখা হয়েছে এই তালিকায়। মেসি ও রোনালদোর সাথে সেখানে আছেন রোনালদো নাজারিও, ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি, মার্কো ফন বাস্তেন এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের মতো মহাতারকারা। ফুটবলপ্রেমীরা তাদের পছন্দের তারকার নির্দিষ্ট কোনো ব্যালন ডি’অরজয়ী বছরের পক্ষে রায় দিচ্ছেন।
ভোটের নিয়ম নিয়ে সংশয়
আয়োজনটি আলোচনায় আসার বড় কারণ এর ভোটিং পদ্ধতি। ব্যালন ডি’অরের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, প্রতিটি ভোটের পেছনে খরচ করতে হচ্ছে এক ইউরো। শুধু তা-ই নয়, অর্থ পরিশোধ করে একজন সমর্থক যতবার খুশি একই খেলোয়াড়ের পক্ষে ভোট দিতে পারছেন।
এমন শর্তের কারণেই ফলের যথার্থতা নিয়ে আপত্তি তুলছেন অনেকে। কারণ যেকোনো এক পক্ষের সমর্থক অর্থ ঢেলে ফল নিজেদের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতে পারেন, যা সার্বিক জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন নয়। পাশাপাশি এখানে পুরো ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তা নয়, মূল্যায়ন করা হচ্ছে নির্দিষ্ট বছরের সাফল্যকে।
এখন পর্যন্ত শীর্ষে থাকা রোনালদোর ২০০৮ সালটি তার জীবনের সেরা অধ্যায়গুলোর একটি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে সেবার তিনি ঘরে তোলেন প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি। ২০০৭-০৮ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২ গোল করার স্বীকৃতি হিসেবেই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।

