মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন স্প্যানিশ ফুটবলার

নিজস্ব প্রতিবেদক০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন স্প্যানিশ ফুটবলার

ম্যাচ শেষ হতে বাকি ছিল কয়েক মিনিট। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে মাঠেই জ্ঞান হারান স্প্যানিশ ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েল। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন চিকিৎসকেরা। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে কিছুটা আশার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি তাকে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব টেনেরিফের এই ফরোয়ার্ড। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর।

সোমবার (২ নভেম্বর) স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগ সেগুন্দা ডিভিশনে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। টেনেরিফের ঘরের মাঠ হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে তখন দুই দলের স্কোর ২-২। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আন্দোরার গোলরক্ষক জেসুস ওওনোর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় মিগুয়েলের। এরপরই মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন রেফারি।

ম্যাচের শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল টেনেরিফে। প্রথমার্ধে দুই গোল করে স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ায় আন্দোরা। ৮৩ ও ৮৮ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরায় সফরকারীরা। নির্ধারিত সময় শেষে আট মিনিট যোগ করেন রেফারি। সেই সময়েই ঘটে দুর্ঘটনাটি।

আন্দোরার রক্ষণভাগের পেছনে ফাঁকা জায়গায় পাঠানো একটি লম্বা বলের দিকে ছুটছিলেন মিগুয়েল। বিপদ বুঝে নিজের বক্স ছেড়ে অনেকটা সামনে এগিয়ে আসেন গোলরক্ষক ওওনো। বলটি বিপদমুক্ত করার চেষ্টায় লাফিয়ে ওঠার সময় তার হাঁটু আঘাত করে মিগুয়েলের শরীরে। সংঘর্ষের পরপরই মাটিতে পড়ে যান টেনেরিফের ফরোয়ার্ড।

প্রথমে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি একটি ফাউল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু মিগুয়েল নড়াচড়া না করায় দ্রুত পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন দুই দলের ফুটবলাররা। তারা চিকিৎসকদের মাঠে প্রবেশের সংকেত দেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে স্টেডিয়ামের পরিবেশ বদলে যায়। সতীর্থের এমন অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন টেনেরিফের কয়েকজন ফুটবলার।

পাঁচ মিনিটের বেশি সময় মাঠেই মিগুয়েলকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে টেনেরিফের নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে লা কান্দেলারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে আবার তার হৃদ্‌স্পন্দন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন চিকিৎসকেরা।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আন্দোরার গোলরক্ষক ওওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি মানুয়েল আনহেল পেরেজ এরনান্দেজ। ম্যাচটি আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। দুই দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে ২-২ সমতায় থাকা অবস্থাতেই খেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর সোমবার সন্ধ্যায় মিগুয়েলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় টেনেরিফে। ক্লাবটি জানায়, তাদের ফরোয়ার্ডকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হলেও তখন স্থিতিশীল ছিলেন তিনি।

তবে মঙ্গলবার ভোরে নতুন করে উদ্বেগজনক খবর দেয় স্প্যানিশ ক্লাবটি। দ্বিতীয় বিবৃতিতে জানানো হয়, মিগুয়েলের স্নায়বিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য দেওয়ার কথাও জানায় টেনেরিফে।

কয়েক ঘণ্টা পরই আসে সবচেয়ে দুঃসংবাদটি। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার সকালে মারা যান মিগুয়েল। ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

শোকবার্তায় টেনেরিফে জানায়, গভীর বেদনা ও অবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে জেসুস দে মিগুয়েলের মৃত্যুর খবর জানাচ্ছে তারা। এমন শোকের মুহূর্তে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা নেই। এই অসহনীয় দুঃখ লাঘব করার মতোও কিছু নেই।

মিগুয়েলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ ফুটবলারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব স্প্যানিশ ফুটবলার্স (এএফই)। সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও ছিলেন মিগুয়েল। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সতীর্থ ও টেনেরিফে ক্লাবের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সংগঠনটি।

১৯৯৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর স্পেনের মাদ্রিদে জন্ম মিগুয়েলের। পুরো নাম জেসুস দে মিগুয়েল আলামেদা। পেশাদার ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন এই ফরোয়ার্ড। ইউনিয়নিস্তাস দে সালামানকা, নাভালকারনেরো ও কাস্তেয়নের মতো ক্লাবের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল তার।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...