চাঁদপুরে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় জায়গা সংকটে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে রোববার পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৭ জনে।
রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সামগ্রীর কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লেও হাসপাতালের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। বাড়ির ছাদ, আঙিনা, অফিস ও আশপাশের জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
তিনি আরও বলেন, জ্বরসহ ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
চাঁদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়েও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশে পানি জমতে না দেওয়াকেই এডিস মশার বিস্তার ঠেকানোর অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।


