স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালার আলোকে চুয়াডাঙ্গার ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক খাতের বাস্তবতা ও প্রশ্ন।
সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন করে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে চুয়াডাঙ্গার বাস্তবতায়।
চুয়াডাঙ্গা শহরে সদর হাসপাতালকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাসপাতাল সংলগ্ন অল্প পরিসরের মধ্যেই সারি সারি এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলেও আগে থেকে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু অনুমোদন নয়, মানতে হবে ক্যাটাগরির নিয়মও
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ সেবার ধরন, জনবল ও যন্ত্রপাতির সক্ষমতার ভিত্তিতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এ, বি ও সি এই তিন ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স প্রদান করে। এছাড়া রয়েছে বিশেষায়িত সেবা ক্যাটাগরি, যার আওতায় চক্ষু, ডেন্টাল, মাতৃত্বকালীন ক্লিনিক এবং বিদেশগামীদের মেডিক্যাল চেকআপ সেন্টার পরিচালিত হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার যে ক্যাটাগরির লাইসেন্স পেয়েছে, তারা কেবল সেই ক্যাটাগরির অনুমোদিত পরীক্ষাই করতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে, সি ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত রুটিন পরীক্ষা যেমন সিবিসি, ব্লাড সুগার, ইউরিন রুটিনসহ সীমিত কিছু পরীক্ষা করার অনুমতি পায়। ইসিজি, এক্স-রে বা জটিল বায়োকেমিস্ট্রি পরীক্ষার অনুমতি তাদের নেই।
কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় বাস্তবে এই নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের লাইসেন্সের সীমা অতিক্রম করে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
তদারকির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের দাবি, বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। ভুল রিপোর্ট, অনুমোদনের বাইরে পরীক্ষা কিংবা সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর তদারকি খুব কমই দেখা যায়।
এ অবস্থায় শুধু চিকিৎসকদের দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন নীতিমালাও কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশ্ন রয়ে গেল বাস্তবায়ন নিয়ে
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না। তবে ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান, পুরোনো লাইসেন্স, সম্প্রসারণ কিংবা ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেবা পরিচালনার বিষয়গুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে সেটিই এখন চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের প্রধান প্রশ্ন।
Chuadanga.net মনে করে, জনস্বার্থে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা, নিয়মের প্রয়োগ এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


