লোগো
Advertisement

হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনায় সমাধান আশা যুক্তরাষ্ট্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ এএম
Advertisement

চুয়াডাঙ্গা ডট নেট ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে এর একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হাসিনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে সম্পর্কে ওয়াশিংটন এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।
নিউ ইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে বুধবার এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ কথা বলেন। ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তাটি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি ওয়াশিংটন। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে—এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা।
২০২৪ সালের আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অভিযোগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
এর মধ্যে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনুপস্থিতিতে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তিন বড় শক্তির মধ্যে কাউকে বেছে না নিয়ে কীভাবে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব—এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাটি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একটি জটিল বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে নির্দিষ্ট পক্ষ বেছে নিতে উৎসাহিত করে না; বরং দেশগুলোর জন্য বিকল্প অংশীদার হওয়ার কথা বলে ওয়াশিংটন।
তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতার আগ্রহের কথাও জানান।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি এবং দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্পের সময়সূচি সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই সময় তাদের ছবি তোলার সুযোগও হয়েছিল বলে জানান মার্কিন কর্মকর্তা।
ব্রিফিংয়ের আগে দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া বিষয়ক মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...