চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ ও যোগদান প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে আগামী রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও।
শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নতুন উপাচার্যের নিয়োগের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন আন্দোলনকারীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’ এবং ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’—এ ধরনের স্লোগান দেন। সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, বৃহস্পতিবার তারা জানতে পারেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম উপাচার্য পদে যোগদানের জন্য অনলাইনে যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হয়। তাদের দাবি, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে তারা উপাচার্য হিসেবে মেনে নেবেন না।
এদিকে আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণ করে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। তবে হল ও জরুরি কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতার বাইরে থাকবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে নতুন উপাচার্যকে গ্রহণ না করার কথা জানানো হয়েছিল। ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের যোগদানের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায়, ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই রাত থেকেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
চুয়েটে নতুন ভিসি নিয়ে উত্তেজনা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ; রোববার থেকে শিক্ষকদের কর্মবিরতি
সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন


