লোগো
Advertisement

‘চুনোপুঁটি নয়, মাদকের মূল ডিলারদের ধরতে হবে’ বললেন বিএনপি নেতা রফিকুল হাসান তনু

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
Advertisement

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে মূল মাদক কারবারিরা। দুই-এক পুরিয়া নিয়ে সেবনকারীরা ধরা পড়লেও, বড় ডিলাররা এখনো বুক ফুলিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে (এসপি) সামনে পেয়ে ঠিক এভাবেই ক্ষোভ ও বাস্তবতার কথা তুলে ধরলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে দামুড়হুদার জয়রামপুর চায়ের দোকান মোড়ে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে এক মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে মাদকমুক্ত জীবনের শপথ নেন।

জয়রামপুর যুব সমাজ মাদক নির্মূল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এসপিকে উদ্দেশ করেই মূলত নিজের বলিষ্ঠ বক্তব্য তুলে ধরেন বিএনপি নেতা তনু।

বক্তব্যের শুরুতেই বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রফিকুল হাসান তনু বলেন, “বর্তমান সরকার, বিএনপির সরকার তথা জনাব তারেক রহমানের সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এরপর থেকে আমরা দেখছি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা নড়েচড়ে বসেছেন। কিন্তু বাস্তবতায় আমরা কী দেখছি? এখনো পর্যন্ত শুধু কিছু মাদক সেবনকারী দুই বা পাঁচ পুরিয়া নিয়ে গ্রেপ্তার হচ্ছে। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী বা ডিলাররা খুব কমই ধরা পড়ছে।”

মাদকের মূল হোতাদের ধরতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ ও যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তনু বলেন, “সামাজিক আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার আপনারা। প্রতিটি পরিবার থেকে যুব ও তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। জয়রামপুরের যুবকেরা যে কার্যক্রম শুরু করেছে, তা সব গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে। মাদক কারবারিরা অনেক কৌশলী হয়, সব সময় প্রশাসনের কাছে সঠিক তথ্য থাকে না। তাই আপনাদেরই সোর্স হিসেবে কাজ করে তাদের ধরিয়ে দিতে হবে।”

পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, “এসপি মহোদয়কে অনুরোধ করব, মাদকের যারা ডিলার, যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তারা এখনো বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে হবেই। মাদকের ডিলার ও ব্যবসায়ীদের না ধরলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল হবে না। আপনারা আরও কঠোর হোন, আমরা আপনাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

সমাবেশের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এক মাদক কারবারির স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ। অনুষ্ঠানে ওই কারবারিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে সবার উপস্থিতিতে তাকে মাদকমুক্ত জীবনযাপন এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার শপথ করানো হয়। আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি প্রকাশ্যে অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে তিনি মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে এসে সৎ জীবনযাপন করবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “মাদক কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংস করে না, এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় হুমকি। মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশের অভিযানই যথেষ্ট নয়; এর বিরুদ্ধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। যারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত, তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়রামপুর যুব সমাজ মাদক নির্মূল কমিটির প্রতিনিধি মো. গোলাম সরোয়ার ছোটন ও মো. ফারুক হোসাইনের (বাবু) সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আজিজুর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেজবাহ্ উদ্দিন এবং ৬ নম্বর হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. নিজাম উদ্দিন।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ সদস্যরা একযোগে হাত তুলে ‘মাদককে না বলুন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ুন’ স্লোগানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...