চুয়াডাঙ্গার ফুলবাড়ির মাঠে একটি হাঁসের খামারে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। খামারি ও কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে প্রায় ৫১৫টি হাঁস নিয়ে গেছে মুখোশধারী ৭-৮ জনের একটি দল। লুট হওয়া হাঁসগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন খামার মালিক।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ফুলবাড়ির মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী খামারি।
খামার মালিক কাশেম পরামানিক পাবনা জেলার হবি পরামানিকের ছেলে। স্থানীয় এক ব্যক্তির সহযোগিতায় ফুলবাড়ির মাঠে তিনি প্রায় ১ হাজার ৩০০ হাঁসের খামার গড়ে তুলেছিলেন।
কাশেম পরামানিকের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও খামারে থাকা কর্মচারীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তারা। রাত আড়াইটার দিকে ৭-৮ জন মুখোশধারী ব্যক্তি দেশি অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে খামারে ঢোকে। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে ডাকাত দলের সদস্যরা।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে হাঁসগুলো বস্তায় ভরে মিনি পিকআপে তোলা শুরু করে তারা। এমনকি তাকে দিয়েও জোর করে হাঁস বস্তায় ভরিয়ে গাড়িতে তুলতে বাধ্য করা হয়। পরে ৫১৫টি হাঁস নিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খামারের কর্মচারী রাসেল শেখ বলেন, রাতে হাঁস চরানোর কাজ শেষে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তারা। হঠাৎ অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করা হয়। চুয়াডাঙ্গার বাইরে থেকে এসে খামারে কাজ করলেও এমন ঘটনার শিকার হবেন, তা কখনো ভাবেননি বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় খামার মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতগুলো হাঁস অল্প সময়ের মধ্যে খামার থেকে বের করে নেওয়া এবং এ ঘটনায় স্থানীয় কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, খামার থেকে হাঁস লুটের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী খামারি ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


