লোগো
Advertisement

এক যুগেও স্থায়ী পরিচালক নেই নজরুল স্টাডিজ ইনস্টিটিউটে, জনবল মাত্র ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
Advertisement

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে গবেষণা, তাঁর সাহিত্য ও দর্শন চর্চা এবং স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’ এক যুগ ধরে নানা সংকটে চলছে। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখনো পায়নি স্থায়ী পরিচালক। পাশাপাশি অনুমোদিত ২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন।

জনবল সংকটের পাশাপাশি স্থায়ী পরিচালক না থাকায় গবেষণা, প্রকাশনা, তথ্য সংরক্ষণসহ ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমও প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইনস্টিটিউটটির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করায় উপাচার্যের পক্ষে সেখানে নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমেও এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম বলেন, সীমিত জনবল দিয়েই নিয়মিত প্রশাসনিক ও গবেষণার কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ এবং জনবল সংকটের কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে বলে জানান তিনি।

তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির কিছু কার্যক্রম রয়েছে। গবেষণা অনুদান দেওয়া, বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ‘নজরুল জার্নাল’ প্রকাশও ইনস্টিটিউটটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নজরুল গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠানটির যে পরিসরে কাজ করার কথা, বর্তমান কার্যক্রম তার তুলনায় অনেকটাই সীমিত।

নতুন ভবনে স্থানান্তরের অপেক্ষা

ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভবনটি হস্তান্তরের পর সেখানে ইনস্টিটিউটটি স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনটিতে ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ ছাড়াও আরও চারটি ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা বলেন, শুধু ভবন বা জায়গার সংকটকে ইনস্টিটিউটটির সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখলে বিষয়টি পুরোপুরি ব্যাখ্যা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ইনস্টিটিউটটির পরিচালক পদটি সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ার সঙ্গে যুক্ত, যা অন্য পরিচালকদের ক্ষেত্রে নেই।

তার মতে, যোগ্য নজরুল গবেষকদের মধ্য থেকে স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ না হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক বা কৌশলগত জটিলতা থাকতে পারে।

সংরক্ষণ হয়নি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছ

ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি ত্রিশালে কবি নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক বটগাছও বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, কিশোর বয়সে নজরুল স্কুল ফাঁকি দিয়ে ওই বটগাছের নিচে বসে বাঁশি বাজাতেন।

২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওই বটগাছের কাছেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় বটগাছ ও ভিত্তিফলকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে পড়ে যায়। এরপর থেকে স্থানটি যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। নতুন ভবনটি এ বছরের মধ্যে হস্তান্তর করা হলে ইনস্টিটিউট সেখানে স্থানান্তর করা হবে। একই সঙ্গে একজন অভিজ্ঞ নজরুল গবেষককে দ্রুত পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঐতিহাসিক বটতলাটিও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা জাদুঘর নির্মাণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...