লোগো
Advertisement

বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ এএম
Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহ চালু থাকার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টানা তৃতীয় দিনের মতো দরপতন হয়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। তবে দুই প্রধান সূচকের তেলের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গ্রিনিচ সময় রাত ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ দশমিক ১ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত হলেও তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বাজারে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটিই আপাতত দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল অপরিশোধিত তেলের দাম। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ এবং ইউরোপমুখী কয়েকটি চালান বাতিলের খবর বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পরও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হামলায় পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি প্রাথমিকভাবে ধারণা করা মাত্রার চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের হিসাবে, পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাবিত হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত কাজ করছে সৌদি আরব। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের প্রায় অর্ধেক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে রিয়াদ। পাশাপাশি ওমানের সোহর বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন পরিশোধনাগারে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটও জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই ওই পাইপলাইনে তেল প্রবাহ পুনরায় শুরু হতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস নৌবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অবৈধভাবে’ চলাচলের চেষ্টা করার সময় টোগো পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। জেপি মরগ্যান জানিয়েছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো তেলের বাজার নিয়ে তারা কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দিতে পারছে না।

অন্যদিকে, জুনে হওয়া একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা হয়নি। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট গুরুত্ব পেতে পারে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...