জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের চার সপ্তাহে তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলে দুই সপ্তাহ পর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা প্রায় ২১ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালে শুধু ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ হিসাবে বহির্বিভাগে চিকিৎসার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়। এ ছাড়া ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরে গড়ে ৪১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালে বস্তুকণাজনিত বায়ুদূষণের সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে বলে মডেলভিত্তিক হিসাবে উঠে এসেছে। বন্যায় পানীয় জল দূষিত হওয়া, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে দেশের মোট চলতি স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ পরিবারগুলো নিজেদের পকেট থেকে বহন করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জলবায়ুসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের মাত্র ২৪ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিভিন্নভাবে জনস্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায়ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।’
কেএইচআই আগামী গরম মৌসুমের আগেই জাতীয় তাপ ও স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ জেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়নের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি হাসপাতালের জরুরি প্রস্তুতি, কর্মক্ষেত্রে বিশ্রাম ও পানীয় জলের ব্যবস্থা, ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার এবং জলবায়ুসংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

