ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) গবেষণা ও রোগ শনাক্তকরণে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা আরও বাড়াতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআরে আয়োজিত ‘২য় বাংলাদেশ এফইটিপি কনফারেন্স ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইইডিসিআর শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার সক্ষমতা দেখিয়েছে। রোগ শনাক্তকরণ ও গবেষণায় এখানকার তরুণ গবেষকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের কাজের পরিধি আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহে সরকার উদ্যোগ নেবে।
করোনা মহামারি ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আইইডিসিআরের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সংকট মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। করোনাকালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।
দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার প্রসঙ্গে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, এসব হাসপাতালে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা, ডায়ালাইসিস সেন্টার, ব্রেস্টফিডিং সেন্টারসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।
এর আগে রাজধানীর সরদার সাখাওয়াত হোসেন কলেজ অব নার্সিংয়ে বিশ্ব আলঝেইমার্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সেখানে আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী বাজেটে প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে আলঝেইমার রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান সরদার সাখাওয়াত হোসেন।


