বাংলাদেশের বাজারে নতুন ফুল-ফ্রেম মিররলেস ক্যামেরা EOS R8 Mark II উন্মোচন করেছে জাপানের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যানন। ২৪ দশমিক ২ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরাটি EOS R8-এর উত্তরসূরি হিসেবে বাজারে এসেছে। কমপ্যাক্ট আকার ও তুলনামূলক কম ওজনের পাশাপাশি এতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি ও বেশ কিছু নতুন ফিচার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যামেরাটির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ক্যানন সিঙ্গাপুরের সিনিয়র ডিরেক্টর (রিজিওনাল বিক্রয় ও বিপণন) নাগাই কাতসুয়ুকি বলেন, নতুন নকশা, সহজ ব্যবহারযোগ্য ফিচার এবং উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে EOS R8 Mark II তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের ফটোগ্রাফাররা নিজেদের সৃজনশীলতা আরও সহজে প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
ক্যাননের তথ্য অনুযায়ী, দেহের ভেতরে স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা যুক্ত এই ক্যামেরাটি তাদের সবচেয়ে ছোট ও হালকা ফুল-ফ্রেম মিররলেস মডেল। এর মাপ ১৩১ দশমিক ৪ × ৯০ × ৭৯ দশমিক ৭ মিলিমিটার। ব্যাটারি ও মেমোরি কার্ডসহ ওজন প্রায় ৫৪৬ গ্রাম।
ক্যামেরাটির নকশায় ক্যাননের পরিচিত পেন্টাপ্রিজম আকৃতির আধুনিক রূপ ব্যবহার করা হয়েছে। সরল রেখা ও বাঁকের সমন্বয়ে তৈরি বডির গ্রিপও রাখা হয়েছে ব্যবহারবান্ধব।
EOS R সিরিজের এই শ্রেণির ক্যামেরায় প্রথমবারের মতো মাল্টি-কন্ট্রোলার বা জয়স্টিক যুক্ত করেছে ক্যানন। এর ফলে ভিউফাইন্ডারে চোখ রেখেই অটোফোকাসের পয়েন্ট দ্রুত পরিবর্তন করা যাবে। বড় হাতের ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা এক্সটেনশন গ্রিপও রয়েছে, যা সহজেই সংযুক্ত ও খুলে ফেলা যায়।
ক্যামেরাটিতে রয়েছে ফুল-ফ্রেম সেন্সর, যা কম আলোতে ছবি তোলা এবং অটোফোকাসের কার্যকারিতায় সুবিধা দেয়। একই ফোকাল লেন্থে তুলনামূলক বিস্তৃত দৃশ্য ধারণের সুযোগ থাকায় ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ফটোগ্রাফিতেও এটি কার্যকর।
হাত কাঁপার কারণে ধীর শাটার গতিতে ছবি ঝাপসা হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ক্যামেরায় দেওয়া হয়েছে ৫-অ্যাক্সিস ইন-বডি ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন। আরএফ লেন্সের নিজস্ব স্ট্যাবিলাইজেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘কর্ডিনেটেড কন্ট্রোল’ প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫ স্টপ এবং প্রান্তে ৭ স্টপ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা পাওয়া যাবে।
দ্রুতগতির বিষয়বস্তু ধারণের জন্য রয়েছে ডুয়াল পিক্সেল সিমস অটোফোকাসের দ্বিতীয় প্রজন্ম। ইলেকট্রনিক শাটার ব্যবহার করে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৪০টি ফ্রেম ধারণ করা সম্ভব। আগে থেকে নিবন্ধিত ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনুসরণ করার সুবিধাও রয়েছে, যা ভিড়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ফোকাসে রাখতে সহায়তা করবে।
ছবি ও ভিডিওতে সরাসরি পছন্দের রঙের আবহ তৈরি করতে নতুন দুটি কালার ফিল্টার—‘নেগেটিভ ফিল্মটোন’ ও ‘পজিটিভ ফিল্মটোন’ যুক্ত হয়েছে। আগের ১৪টি ফিল্টারের পাশাপাশি এসব ফিল্টারের তীব্রতাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। হাতে ধরে রাতের দৃশ্য ধারণের মোডে নতুন চারটি রঙের বিকল্পও থাকছে।
নতুন ব্যবহারকারীদের কথা বিবেচনায় ‘ক্রিয়েটিভ অটো’ মোড যুক্ত করা হয়েছে। ক্যাননের দাবি, EOS ফুল-ফ্রেম ক্যামেরায় এই ফিচার প্রথমবারের মতো এসেছে। সহজ ইন্টারফেসের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ক্যামেরা ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ থাকছে। ভিডিওতে পটভূমি ঝাপসা করা, স্লো ও ফাস্ট মোশন এবং সিনেমা ভিউয়ের মতো সুবিধাও রয়েছে।
ভিডিও নির্মাতাদের জন্য ক্যামেরাটিতে ৬কে থেকে স্যাম্পল করা ৪কে ৬০পি ভিডিও রেকর্ডিং এবং শব্দসহ ফুল এইচডি ১৮০পি রেকর্ডিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে। রঙ সংশোধনের জন্য রয়েছে ক্যানন লগ থ্রি। সিনেমা ইওএস সিরিজ থেকে নেওয়া কাস্টম পিকচার ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজস্ব লুকআপ টেবিল প্রয়োগ এবং ছবির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
লাইভ সম্প্রচারের জন্য তারযুক্ত ও তারবিহীন মিলিয়ে চার ধরনের সংযোগ সুবিধা রয়েছে। ‘লাইভ সুইচার’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে একাধিক অ্যাঙ্গেল থেকে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা যাবে।
ভিআর কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও ক্যামেরাটি ব্যবহার করা যাবে। ফুল-ফ্রেম ও এপিএস-সি ভিআর লেন্সের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভিআর গগলসে দেখার সময় কনট্রাস্ট ও ছবির স্পষ্টতা বাড়াতে নতুন ‘ভিআর ক্লিয়ার মোড’ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ডুয়াল পিক্সেল থ্রিডি কনভার্টার’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্থিরচিত্রকে থ্রিডি ছবিতে রূপান্তরের সুবিধাও থাকছে।
ক্যামেরাটির সঙ্গে তিনটি নতুন আনুষঙ্গিক পণ্যও ঘোষণা করেছে ক্যানন। এগুলো হলো—এক্সটেনশন গ্রিপ ইজি-ই২, ব্লুটুথ রিমোট কন্ট্রোলারসহ ট্রাইপড গ্রিপ এইচজি-১০০০টিবিআর এবং স্পিডলাইট ইএল-৫ (সংস্করণ ২)। নতুন স্পিডলাইটটির তারবিহীন যোগাযোগের পরিসর প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
প্রধান স্পেসিফিকেশন: ক্যামেরাটিতে রয়েছে ডিজিক এক্স প্রসেসর। স্থিরচিত্রে আইএসও ১০০ থেকে ১,০২,৪০০ পর্যন্ত, যা বাড়িয়ে ৫০ থেকে ২,০৪,৮০০ করা যায়। মেমোরির জন্য একটি এসডি কার্ড স্লট রয়েছে, যা ইউএইচএস-১ ও ইউএইচএস-২ সমর্থন করে। সংযোগের ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ ৫.৩, ৪কে ৬০ এফপিএস এইচডিএমআই আউটপুট এবং ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার স্টেরিও মাইক্রোফোন জ্যাক রয়েছে। ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এলপি-ই১৭।
ক্যানন জানিয়েছে, বাজারভেদে পণ্যের দাম, প্রাপ্যতা ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগাম ঘোষণা ছাড়াই এসব পরিবর্তন করা হতে পারে।


