ইরানে ফের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

ইরানের ওপর নতুন করে বড় পরিসরে সামরিক আঘাত হানার তোড়জোড় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সম্ভাব্য এই হামলায় দেশটির কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকে মূল নিশানা করার পরিকল্পনা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ডট নেটের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
মহড়ার মাধ্যমে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের কৌশল রপ্ত করতে ইরাকের আকাশসীমা কাজে লাগিয়ে মহড়া চালাচ্ছে দুই দেশের সামরিক বাহিনী। এরই মধ্যে ইরানের ভেতরে কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে, সেই তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।
কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানের জ্বালানি খাতে আঘাত হানার চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খায়। পাশাপাশি তেহরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের পাশাপাশি পারমাণবিক ক্ষেত্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাদের সামরিক সক্ষমতা দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়ে ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়লে দেশটি শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ছাড় দিতে বাধ্য হতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণ; হামলার চূড়ান্ত পরিণতি বা ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হামলার সময় ও ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইরান প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গতিবিধি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর আগে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পূর্বে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
তবে প্রস্তাবিত এই সামরিক পরিকল্পনায় ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সায় দেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। চলতি অক্টোবরেই এই হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তবে এ ধরনের আশঙ্কা পুরোপুরি নাকচও করা যাচ্ছে না।

