সার্বিয়ায় ১৪ বছরের ‘স্বৈরশাসনের’ পতন: সরকার গঠন ও আমলাতন্ত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে নেতৃত্বহীন ছাত্ররা

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী ও স্টুডেন্ট লিস্টের প্রার্থী আনা মিরকোভিচ বলেন, ‘শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রত্যেক সদস্য এবং তালিকার প্রত্যেক প্রার্থীই আমাদের সামনে থাকা দায়িত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং তাঁদের উপলব্ধি একেবারেই স্পষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনী ফলাফলকে ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা অর্জন হিসেবে দেখছি না। বরং নিজেদের জনগণ এবং নিজেদের সন্তানদের কাছে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ হিসেবে দেখছি। নতুন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হবে দেশের “সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষমুক্তি” নিশ্চিত করা।’
ভুচিচের ১৪ বছরের শাসনব্যবস্থাকে অনেকেই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের ‘ক্লাসিক্যাল টেক্সটবুক এক্সাম্পল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দল গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারিত করেছে। এ সময় নির্বাচনেও ভোটার নিবন্ধনে অনিয়ম, গণমাধ্যমে পক্ষপাত এবং ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে। স্টুডেন্ট লিস্টের নির্বাচনী কর্মসূচির কেন্দ্রে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে আন্দোলনটি প্রসিকিউটরদের কাছে জবাবদিহি করবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নয়, এমন একটি স্বাধীন পুলিশ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে আন্দোলনটির। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সব চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের ওপর নতুন স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের জন্য সেগুলো যাচাইয়ের সুযোগ উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
মিরকোভিচ বলেন, নতুন সরকার এমন একটি ‘ভয় দেখানোর ব্যবস্থা’ ভেঙে দেবে, যা মানুষের মধ্যে ভীতি ও মেরুকরণ তৈরি করেছে। এ জন্য গণমাধ্যমকে ‘জরুরিভাবে উন্মুক্ত’ করা হবে, সরকারি খাতের কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগ বন্ধ করা হবে এবং ‘প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতার অবসান’ ঘটানো হবে। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্য হচ্ছে ‘সমাজকে একেবারে গোড়া থেকে পুনর্গঠন করা।’ এর মধ্যে রয়েছে সব চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ, বিচার বিভাগকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করা ও শক্তিশালী করা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে কুক্ষিগত করার সুযোগ ‘আর কখনোই’ দেওয়া যাবে না।
স্টুডেন্ট লিস্ট সচেতনভাবেই বিভাজন সৃষ্টিকারী পররাষ্ট্রনীতির বিষয়গুলোকে আড়ালে রেখেছিল। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ও রয়েছে। সোমবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা আশা করে, সার্বিয়ার নতুন নেতারা বুঝতে পারবেন যে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা সার্বিয়ার স্বার্থের অনুকূল।

