প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ছয় বছর পরও ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা

২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। চার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে চীনও। পরবর্তী সময়ে স্যাটেলাইট চিত্র ও বিভিন্ন নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যে বিতর্কিত কিছু এলাকায় চীনের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও ভারত সরকার ভূখণ্ড হারানোর অভিযোগ স্বীকার করেনি।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ ডোন্থি মনে করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির উদ্যোগের মধ্যেও সীমান্ত উত্তেজনা চীনের চাপ প্রয়োগের কৌশল হতে পারে। তাঁর মতে, সীমান্তের সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারিত না থাকায় মাঝেমধ্যেই এ ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মোদির ওপর রাজনৈতিক চাপ
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর চীন নীতি নিয়ে মোদি সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের বক্তব্যে অসংগতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
সংঘর্ষের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, চীনা বাহিনী গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ভারতীয় অংশে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করেছিল এবং পরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে সংঘর্ষ ঘটে। কিন্তু এর দুই দিন পর মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ভারতের ভূখণ্ডে কেউ প্রবেশ করেনি এবং কেউ সেখানে অবস্থানও করছে না। এ নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে পড়ে সরকার।
অরুণাচল প্রদেশের কংগ্রেস নেতা বসিরাম সিরাম দাবি করেছেন, চীনা সেনারা আপার সুবানসিরি এলাকায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থান করছে। তাঁর ভাষ্যমতে, চীনা সেনাদের পাহাড়ের চূড়ায় দেখা যাচ্ছে, আর ভারতীয় সেনারা রয়েছেন নিচের দিকে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, চীনা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত টহলব্যবস্থা থেকে সরে এলে সীমান্ত পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে বিঘ্নিত হয়। তবে বর্তমান মুখোমুখি অবস্থানের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

