শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

মাতৃত্বের কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছেন মিলেনিয়াল নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
মাতৃত্বের কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছেন মিলেনিয়াল নারীরা

তিন সন্তানের মা গাকিয়ান নিজেও প্রথম সন্তান জন্মের পর তীব্র মানসিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একপর্যায়ে তাঁকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তাঁর ভাষ্য, মিলেনিয়াল প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়েছে—উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, ক্যারিয়ার গঠন, সংসার ও সন্তান প্রতিপালন; সবকিছুই একসঙ্গে সফলভাবে করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়। মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে হবে, কখনো ক্লান্তি বা বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না—এমন প্রত্যাশাও নারীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, নিখুঁত মা হওয়ার সামাজিক প্রত্যাশা অভিভাবকদের মানসিক অবসাদ বাড়িয়ে তুলছে। ২০২২ সালের আরেক গবেষণায় উঠে আসে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে তুলনা এবং সব দায়িত্ব একাই সামলানোর প্রবণতা কর্মক্ষেত্র ও সন্তান প্রতিপালন—উভয় ক্ষেত্রেই মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়।

ব্যক্তিগত স্টাইলিস্ট ক্যাট ন্যাপও এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো এবং সব ধরনের শিশুতোষ ক্লাসে নিয়ে না যাওয়ার কারণে নিজেকে অন্যদের কাছে অপরিণত মা মনে হতো তাঁর। এর ফলে প্রসব-পরবর্তী উদ্বেগ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। দুই বছর ধরে ব্যক্তিগত থেরাপি নেওয়ার পর দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর খাবার, ঘুমের সময়সূচি, স্ক্রিন টাইম কিংবা সন্তান প্রতিপালনের পদ্ধতি নিয়ে অসংখ্য পরামর্শ মায়েদের বিভ্রান্ত করছে। অথচ সব শিশুর প্রয়োজন এক নয়। যুক্তরাজ্যের আরেক মা এলা জানান, সন্তানের ঘুমের সময়সূচি ঠিক করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শ অনুসরণ এবং একজন বিশেষজ্ঞকে ৩০০ পাউন্ড দেওয়ার পরও তাঁর উদ্বেগ কমেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝেছেন, অন্যের পরামর্শের চেয়ে সন্তানের প্রয়োজন ও নিজের মানসিক স্বস্তিকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি জরুরি।

চার বছর বয়সী কন্যার সঙ্গে লরা গাকিয়ান। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
চার বছর বয়সী কন্যার সঙ্গে লরা গাকিয়ান। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

মাতৃত্বজনিত অপরাধবোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বেলিন্ডা ব্যাটের মতে, সন্তান লালন-পালন নিয়ে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সেসব পরামর্শ বাস্তবায়নের দায়িত্ব এককভাবে মায়েদের ওপর চাপানো হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক সংঘাতের মতো অনিশ্চয়তাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।

লরা গাকিয়ানের মতে, আগের প্রজন্মের মায়েদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের জীবনযাপনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত নিজের তুলনা করতে হতো না। বর্তমান পরিস্থিতি বদলাতে কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তা, বাবাদের জন্য উন্নত পিতৃত্বকালীন ছুটি, সাশ্রয়ী শিশুযত্ন এবং মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রয়োজন।

তাঁর পরামর্শ, নিখুঁত মা হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে মায়েদের নিজেদের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ মা ভালো না থাকলে পুরো পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সন্তান ও মা—দুজনের সুস্থতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে মাতৃত্বের প্রকৃত ভারসাম্য।

লাইফস্টাইল থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...