পায়ে হেঁটে পুরো পৃথিবী চক্কর, ২৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন কার্ল

বিবিসি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুশবির এই অভিযানের নাম ছিল ‘গোলিয়াথ এক্সপেডিশন’। অভিযানের মূল শর্ত ছিল দুটি—কোনো যানবাহন ব্যবহার করে যাত্রাপথ অতিক্রম করা যাবে না এবং বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত মাঝপথে অভিযান শেষ করা যাবে না।
এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁকে অতিক্রম করতে হয়েছে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দুর্গম জঙ্গল, বিস্তীর্ণ মরুভূমি, বরফে ঢাকা প্রান্তর এবং বিপজ্জনক জলপথ। আলাস্কা থেকে রাশিয়ার মধ্যবর্তী বেরিং প্রণালির বরফাচ্ছন্ন পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। কাস্পিয়ান সাগর এবং সর্বশেষ ইংলিশ চ্যানেলও সাঁতরে অতিক্রম করেছেন। গত অক্টোবরেই ফ্রান্স থেকে সাঁতরে ইংল্যান্ডে পৌঁছান বুশবি।
তবে অভিযানটি মোটেও মসৃণ ছিল না। মধ্য আমেরিকার পানামায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৮ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে তাঁকে। মেক্সিকোতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মুখোমুখিও হয়েছেন। রাশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা ও সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতায় আটকে যায় তাঁর যাত্রা। ২০১২ সালে রাশিয়ার ভিসা না পেয়ে প্রতিবাদ জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে রুশ দূতাবাস পর্যন্ত হেঁটে যান তিনি। পরে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ায় আবারও যাত্রা শুরু করতে পারেন।
এ ছাড়া ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, করোনাভাইরাস মহামারি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেও দীর্ঘ সময় থেমে থাকতে হয়েছে তাঁকে। শুরুতে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছরে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সময় লেগেছে ২৮ বছর।

