লোগো
Advertisement

জীবননগরের মনোয়ারা সনো সেন্টারে ভুল অপারেশন ও অপচিকিৎসার অভিযোগ, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ এএম
Advertisement

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে অপারেশনের পর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সোহাগী খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোহাগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলা, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা নিয়ে পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ঘটনার সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমের অনুমোদন, চিকিৎসা কার্যক্রম, অপারেশন থিয়েটারের অবস্থা ও মান এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট পেটে ব্যথা নিয়ে সোহাগীকে জীবননগরের ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে জানান। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর সোহাগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিবারের দাবি, প্রচণ্ড বমি, মাথাব্যথা ও জ্বর দেখা দেওয়ার পর ৩০ আগস্ট তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২ সেপ্টেম্বর আবার ওই ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে যশোর ও ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সোহাগীর মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা, অস্ত্রোপচারের পরবর্তী চিকিৎসা এবং চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে স্থানীয়ভাবে ডা. রফিকুল ইসলামের মফস্বলের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত অস্ত্রোপচার করা এবং তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিষয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও চিকিৎসাগতভাবে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে।

তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া, ক্লিনিকের কাগজপত্র ও অনুমোদন যাচাই এবং অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করবে বলে জানা গেছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা চিকিৎসায় গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। সোহাগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোহাগীর মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...