চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ড্রেন নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে রাব্বি (১৮) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন।
রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের রংপুর গ্রামের ফকিরপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে। আহত দুই শ্রমিক হলেন একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে তানজিন (২২) এবং শহিদুলের ছেলে রাজন (২১)।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রংপুর গ্রামের ফকিরপাড়ায় ইউনুস আলী বিশ্বাসের ছেলে মতিয়ার ও আইয়ুব আলীর ছেলে জিনারের বাড়িতে ড্রেন নির্মাণের কাজ করছিলেন রাব্বি, তানজিন ও রাজন। বিকেলে তানজিন ও রাজন ড্রেনের পাশে কাজ করছিলেন, আর রাব্বি নিচে নেমে মাটি কাটছিলেন।
হঠাৎ ড্রেনের পাশের মাটি ধসে পড়লে রাব্বি ড্রেনের ভেতর মাটিচাপা পড়েন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তানজিন ও রাজনও মাটির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তানজিন ও রাজনকে উদ্ধার করতে পারলেও রাব্বি মাটির নিচে আটকা পড়ে থাকেন।
খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টার পর রাব্বিকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাব্বি রাজমিস্ত্রির জোগালের কাজ করে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার বাবা কাউসার আলী ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালান। তিন মেয়ের পর রাব্বিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। বাবা-ছেলে দুজনের আয়ে পরিবারে কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই প্রাণ হারালেন রাব্বি।
রাব্বির মৃত্যুর খবর সরিষাডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা ও বোনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারিতে উপস্থিত অনেকের চোখেও পানি চলে আসে।
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।


